খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম ইছাছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে অনন্ত নামের এক চাষির সহস্রাধিক পানগাছ দুর্বৃত্তদের হাতে কেটে ফেলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি গত রোববার সন্ধ্যায় কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, ইছাছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের মোট ৪৬টি পরিবার বসবাস করে। এসব পরিবারের একমাত্র জীবিকা পান চাষ। টিলাভূমিতে প্রতিটি পরিবারের আলাদা জমিতে পান চাষ হয়। অনন্তের জমিতে প্রায় দেড় হাজার পানগাছ ছিল। তিনি রোববার সকালে জমিতে গেলে দেখেন সহস্রাধিক গাছের গোড়া কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। ঘটনার খবর তিনি পুঞ্জির অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে জানান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শনিবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটতে পারে। অনন্তর দাবি, এতে তার প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে এলাকার সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই।
পুঞ্জির সহকারী মন্ত্রী (পুঞ্জিপ্রধান) জামাল মার্লিয়ার বলেন, “কয়েক বছর ধরে এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। কে বা কারা কেন এই কাজ করে তা আমরা বোঝাতে পারছি না। আশা করি পুলিশের তদন্তে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”
কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| চাষির নাম | মোট গাছ | ক্ষতিগ্রস্ত গাছ | আনুমানিক ক্ষতি (টাকা) | পরিবারের সংখ্যা | পুঞ্জির নাম |
|---|---|---|---|---|---|
| অনন্ত | 1,500 | 1,200 | 2,50,000 | 46 | ইছাছড়া |
পুঞ্জির বাসিন্দারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পান চাষই তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় পানি চাষে অভ্যস্ত খাসিয়া সম্প্রদায় অজানা দুর্বৃত্তদের এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণে উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্ক করে জানিয়েছেন, তারা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করবেন এবং যারা এ কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন। পুঞ্জির মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত এলাকায় পুলিশি অভিযান বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ঘটনায় খাসিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুঞ্জির নেতারা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চাষিদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং অনুরোধ জানিয়েছেন যে, ক্ষতি সনাক্ত করতে দ্রুত তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছানো হোক।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে, খাসিয়াপুঞ্জি অঞ্চলে চাষের জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় অরক্ষিততা বৃদ্ধির ফলে সামাজিক ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসন ও সম্প্রদায়কে একযোগে সচেতন না হলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হওয়া সম্ভব।
এই ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে শুধু একটি চাষির ক্ষতির বিষয় নয়, বরং পুরো খাসিয়া সম্প্রদায়ের জীবিকা এবং নিরাপত্তার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।