খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড। এর সঙ্গে যুক্ত হলে নেপাল, ভুটান; এমনকি সেভেন সিস্টার্সও লাভবান হবে।
বুধবার (১৪ মে) সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ৫ নম্বর ইয়ার্ডে বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা হৃৎপিণ্ড শুধু বাংলাদেশের জন্য না, আশপাশের দেশগুলোর জন্যও সংযুক্ত। যে কারণে নেপালের কথা বললাম, ভুটানের কথা বললাম, সেভেন সিস্টার্সের কথা বললাম। সবার জন্য হৃৎপিণ্ড একটাই। নেপালের হৃৎপিণ্ড নেই। কাজেই আমাদের হৃৎপিণ্ড দিয়ে তাদেরও চলতে হবে। আমরা তাকে সংযুক্ত করতে চাই।’
হৃদপিণ্ডে সংযুক্ত হলে তারাও লাভবান হবে, আমরাও লাভবান হবো মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের লাভ। তাদেরও লাভ। এমন নয় যে এটা মেহেরবানি করছি, মেহেরবানির বিষয় নয়। ভুটান, সেভেন সিস্টার্স সংযুক্ত হলে তারাও লাভবান হবে, আমরাও লাভবান হবো। যারা এই হৃদপিণ্ডকে বাদ দেবে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা তাদেরও কাম্য নয়, আমাদেরও কাম্য নয়। আমরা চাই সবাই মিলে এ বন্দর থেকে যেন সঞ্চালনটা পাই। অর্থনৈতিক শক্তিটা পাই।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর আমার কাছে কোনো অপরিচিত জায়গা না। যেহেতু এখানে বড় হয়েছি। ছাত্রাবস্থায় এখানে এসেছি জাহাজ দেখার জন্য। যখন জাহাজ থেকে মাল খালাসের সেই দৃশ্য ভিন্ন জিনিস। খোলের ভেতর গিয়ে মাথায় করে বস্তা ওপরে উঠাচ্ছে। তারপরে ক্রেন আসলো পরবর্তী পর্যায়ে। সেই পর্যায় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর আজ বর্তমান পর্যায়ে এসেছে।
তবে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবর্তনে ধীরগতি রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কিন্তু বরাবরই দুঃখ, এটার পরিবর্তন এত শ্লথ কেন? দুনিয়ার সব কিছু পাল্টে যাচ্ছে আমাদের এখানে এটা পাল্টায় না কেন? এটা আজকের প্রশ্ন না। চট্টগ্রামবাসী হিসেবে এ পথে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা হয়, বিশেষ করে যখন গাড়ি চলে না। আটকে যায়। কী হলো, ট্রাক ভর্তি রাস্তায়, মাল খালাস করতে পারছে না। এদিকে ট্রেন মিস করে ফেলেছি। কাজেই এটা সম্পর্কে চিন্তা না করে উপায় নেই। কথাবার্তা বলেছি, মাঝেমধ্যে লেখালেখি করেছি এটা নিয়ে। এবার যখন সুযোগ পেলাম প্রথম দিন থেকে চেষ্টা করছি এটার ব্যাপারে নজর দেব, কীভাবে এটার পরিবর্তন করা যায়। একটা সত্যিকার বন্দর হিসেবে তৈরি করতে হবে।’
বাংলাদেশের অর্থনীতি পাল্টাতে হবে উল্লেখ করে ড. ইউনূস আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর হলো ভরসা। এটাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন কোনো পাতা, নতুন কোনো অধ্যায়ে প্রবেশ করার কোনো সুযোগ নেই। এ পথ খুলে দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতির পথ খোলে। এ পথ না খুললে বাংলাদেশের অর্থনীতির পথ যতই লাফালাফি করো, ঝাঁপাঝাঁপি করো কিছুই হবে না।’
খবরওয়ালা/এমএজেড