কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: 28শে চৈত্র ১৪৩১ | ১১ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ায় আওয়ামীলীগের দোসর চাল ব্যবসায়ী রশিদ কর্তৃক বিএনপি নেতাকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা তথ্য দিয়ে ফাঁসানোর চক্রান্তের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপি।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বেলা ১১ টার সময় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের মরহুম এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ জাহিদুল ইসলাম (বিপ্লব), ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার নাসিম সাইগল মুন্না, ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম শফি, জিয়াউল ইসলাম লিটন ও জাফরুল ইসলাম লিংকন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম (বিপ্লব)।
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের কাছে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ৭ জানুয়ারী ভোটের দিন পর্যন্ত ৯টি মামলাসহ ১৫টি মামলা মাথায় নিয়েও কুষ্টিয়ায় আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছি। দলকে সংগঠিত করতে আমি নিরলস কাজ করে চলেছি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা থাকায় আমি কোন টেন্ডারবাজির সাথে জড়িত নয়। আমি একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী। জীবিকার প্রয়োজনে ত্রুটি ও ঝামেলামুক্ত কাজগুলোতে অংশ নিয়ে থাকি। অথচ আমাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করতে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার ব্যবসায়ীক পার্টনার ও আওয়ামীলীগের দোসর চাল ব্যবসায়ী রশিদ ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা তথ্য দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চক্রান্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, গত বুধবার(৯ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়ায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর চেক জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার আসামি বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি চাল ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদের কুষ্টিয়া শহরের গোশালা রোডের বাড়িতে কে বা কারা গুলি বর্ষণ করেন। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে আওয়মীলীগের ওই দোসর সাংবাদিকদের কাছে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করেন। ওই দিন তিনি সাংবাদিকদের কাছে বক্তব্য দেন, আইলচারা পশু হাটের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে তার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অথচ আমি কিংবা মুন্না কেউ ওই হাটের দরপত্র ক্রয়ই করি নাই। যেখানে আমরা দরপত্রে অংশ নেইনি, সেখানে আমাদের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়, বলে আমি মনে করি।
বাড়িতে গুলির ঘটনায় আব্দুর রশিদ তাৎক্ষনিক সাংবাদিকদের বলেছেন, আইলচারা পশুহাটের ইজারা পাওয়াকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম (বিপ্লব) ও ব্যবসায়ী মুন্না চরমপন্থী সংগঠনের নেতাদের দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
সেই বক্তব্যকে কোট করে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়া ও স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সাংবাদিকদের আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের আরো বলেছেন, তিনি ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চাল ব্যবসার পাশাপাশি হাটবাজার ইজারা নেওয়ার ঠিকাদারি করেন। কয়েক দিন আগে সদর উপজেলার আইলচারা পশুহাটের ইজারা পেয়েছেন তাঁর ভাতিজা জিহাদুজ্জামান। ওই হাটের দরপত্র কেনার পর থেকে চরমপন্থী গঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে দরপত্র জমা না দিতে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কয়েক দিন আগে প্রায় ১ কোটি ৬২ লাখ টাকায় হাটের ইজারা পান তার ভাতিজা জিহাদুজ্জামান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই চরমপন্থী নেতা পরিচয় দিয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, আইলচারা হাটের ইজারা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। না হলে মেরে ফেলার হুমকি দেন ওই চরমপন্থী নেতা।
তিনি বলেন, আইলচারা পশুহাটের টেন্ডারে অংশ না নিতে চরমপন্থীরা আমাকেও হুমকি দিয়েছিল। এ জন্য আমি টেন্ডারে অংশ নেয়নি, তাহলে এখন কেন আমার নাম আসছে? ‘এলাকায় রশিদদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। এ জন্য আমাকে রাজনীতিকভাবে হেয় করতে একটি ভিন্ন ইস্যুকে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে তিনি রাজনৈতিক ফয়দা লুটতে চেষ্টা করছে।
বিএনপির এই নেতা মো. জাহিদুল ইসলাম (বিপ্লব) আরো বলেন, ‘আবদুর রশিদ ও তার পরিবার ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের দোসর। তার বড় ভাই সিদ্দিকুর রহমান বিএনপি ছেড়ে মাহবুব উল আলম হানিফের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরবর্তীতে সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। বর্তমানে তিনি সদর থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। তাঁরা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে হানিফের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাটঘাট ইজারা নিয়ে পরিচালনা করেছেন। আব্দুর রশিদ নিজেও ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ কুষ্টিয়া সদর আসনের এমপি হওয়ার পর তার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে আইলচারা পশুহাট, নান্দিয়ার বিল, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তার ব্যবসায়িক পার্টনার ছিল হানিফ ও তার চাচাতো ভাই সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা।
পরিশেষে তিনি বলেন, আব্দুর রশীদের বাড়িতে গুলির ঘটনায় আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। উক্ত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তদন্ত করে আসল ঘটনা তুলে ধরার অনুরোধ জানান কুষ্টিয়া বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ জাহিদুল ইসলাম (বিপ্লব) ।
খবরওয়ালা/টিএ