দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: 7শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২১ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. সোহাগ আহমেদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলার মাদিয়া গ্রামের রাজত্ব আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, গেল বছরের জুলাই মাসের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সোহাগ আহমেদের জীবনযাত্রায় হঠাৎ পরিবর্তন আসে। এর পর থেকেই তিনি একের পর এক অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
রিফাইতপুর ইউনিয়নের দিঘলকান্দি গ্রামের মৃত আবুল হোসেন মণ্ডলের ছেলে ভুক্তভোগী রাকিব আলী জানান, গত ১৫ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে মাদিয়া গ্রামে এক আত্মীয়ের জমি পরিমাপ করতে গিয়ে বড় বটগাছের নিচে নিজের টিবিএস মেট্রো প্লাস (সিলভার-ব্লু) মোটরসাইকেল রেখে যান। এসময় সেখানে উপস্থিত যুবদল নেতা সোহাগের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাঁর চাচাতো ভাইয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ৪৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে রাকিব এগিয়ে এলে তাঁকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় এবং তার মোটরসাইকেলটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চলে। চাবি না পেয়ে তারা মোটরসাইকেলের ঘাড় লক ভেঙে সেটি ছিনিয়ে নেয় ও সোহাগের অফিসে নিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নেয় সোহাগ ও তাঁর সহযোগীরা।
রাকিব জানান, ঘটনার কয়েকদিন পর সোহাগ মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সহায়তায় চাঁদার অর্থ সংগ্রহ করে সোহাগের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর রাকিব আলী দৌলতপুর থানায় হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, মামলা হলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো অগ্রগতি বা উদ্ধার তৎপরতা চোখে পড়েনি।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সোহাগের নেতৃত্বে চোর ও ছিনতাইকারীদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পুরো পিয়ারপুর ইউনিয়নজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন।’
তাঁরা আরও জানান, চক্রের অন্যতম সদস্য আলম, যাকে এলাকায় ‘আলম চোর’ বা ‘আলম খবিশ’ নামেও ডাকা হয়, আগে জাসদের গণবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। এখন নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে সোহাগের সহযোগী হিসেবে অপকর্মে লিপ্ত রয়েছেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি মামলা হয়েছে। আমরা ক্লু পাওয়ার চেষ্টা করছি। ক্লু মিললেই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হবে।’
খবরওয়ালা/আরডি