খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মো. জুলফিকার আলী হায়দারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে খুলনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মতদ্বৈততা দেখা গেছে। নেতারা এ নিয়ে প্রকাশ্যে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগও তুলছেন।
সোমবার (৩০ জুন) দুপুরে এক পক্ষ সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের আন্দোলনের আর প্রয়োজন নেই বলে ঘোষণা দেন, সেইসাথে কেউ আন্দোলন করলে তা প্রতিহতেরও ঘোষণা করেন। অপর-পক্ষ বিকালে কেএমপি সদর দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে।
জানা গেছে, সোমবার (৩০জুন) বিকাল ৪টার দিকে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেএমপির সদর দফতরের সামনে সড়কে আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। এ সময় তারা রাস্তার দুই পাশ বন্ধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাংশের নেতাকর্মী, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কেএমপি কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দারসহ কয়েকজন কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপেই সুকান্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে তারা খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভীষণ নাজুক হওয়ার পেছনে দায় এবং অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন । গত বুধবার হতে শুরু হয় এ আন্দোলন।
বিক্ষোভ চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ দিন ধরে আমরা রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এটা কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাদের আন্দোলন নয়। এই আন্দোলন খুলনার আপামর জনতার আন্দোলন। খুলনার মানুষ নিরাপত্তাহীনতা থেকে এই আন্দোলনে অংশ নিচ্ছে। কোনও ব্যক্তির ডাকে এখানে আন্দোলন হয়নি।’
এদিকে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সমমনা ৮টি সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, একটি বিশেষ মহল জুলাই আন্দোলনের গুটি কয়েক সহযোদ্ধাকে ব্যবহার করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে। সোমবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘কোনও ব্যক্তিকে নামানোর জন্য বা টিকিয়ে রাখার জন্য আন্দোলন শুরু করিনি আমরা। এসআই সুকান্তকে গ্রেপ্তারের পর আমাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য সফল হওয়ায় আন্দোলন থেকে আমরা সরে আসি। তবে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, এখনও আমাদের গুটি কয়েক সহযোদ্ধাকে ব্যবহার করে একটি বিশেষ মহল উক্ত আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে যার দায়ভার কোনোভাবেই জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীরা গ্রহণ করবেন না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল শাহরিয়ার, জেলা কমিটির মুখপাত্র মিরাজুল ইসলাম, জাস্টিস ফর জুলাইয়ের বিভাগীয় প্রতিনিধি সাইফ নেওয়াজ, জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের জাহিদুল ইসলাম, আপ বাংলাদেশ-এর ফয়জুল্লাহ ইকবাল, ইনকিলাব মঞ্চ, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশের (পুসাব) প্রতিনিধিসহ আরও অনেকে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল শাহরিয়ার বলেন, ‘অভ্যুত্থানে যে অবিচার হয়েছে, আইনি মাধ্যমে তার বিচার হবে। কোনোভাবে মব তৈরি করে, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্পর্ক নেই।’
খবরওয়ালা/টিএস