খবরওয়ালা বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে চৈত্র ১৪৩১ | ১৬ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
এখনকার ঢালিউডের সিনেমা এবং তারকার পারিশ্রমিকের পরিস্থিতি বেশ পরিবর্তনশীল। জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে পারিশ্রমিকের পার্থক্যও স্পষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন নায়করা তাদের অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা, এবং চলচ্চিত্রের বাজার ভিত্তিক পারিশ্রমিক গ্রহণ করছেন। ছবিপ্রতি কেউ পাচ্ছেন ৩-৫ লাখ, কেউবা ১৫ থেকে ২০ লাখ, আবার ২৫ লাখ টাকাও নিচ্ছেন কেউ। শুধু একজনই দর হাঁকাচ্ছেন কোটি টাকা। তারকা, পরিচালক, প্রযোজকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঢালিউডের শীর্ষ নায়কদের ছবিপ্রতি পারিশ্রমিকের একটা সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

শাকিব খান
‘অনন্ত ভালোবাসা’ দিয়ে ১৯৯৯ সালে ঢালিউডে অভিষেক হয়, ঢালিউডের সুপারস্টার শাকিব খানের। এই ছবিতে তাঁর পারিশ্রমিক ছিল লাখ টাকার কম। ২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ দিয়ে প্রথম ব্লকবাস্টারের দেখা পান শাকিব। এর পর থেকে ধীরে ধীরে ঢালিউডের সফল ও জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৮ সালের শেষে হঠাৎ করেই পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দেন শাকিব। ছবিপ্রতি ৪০ লাখ টাকা নেন। আর ‘প্রিয়তমা’ ব্লকবাস্টার হওয়ার পর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে এই পারিশ্রমিক। গেল কয়েক বছরে ‘প্রিয়তমা’, ‘রাজকুমার’, ‘তুফান’, ‘দরদ’-এ দফায় দফায় দর বাড়িয়েছেন শাকিব। বর্তমানে ছবি প্রতি ১.৫ কোটি টাকা নিচ্ছেন। তার খ্যাতি এবং কমার্শিয়াল সিনেমা ব্যবসা তাকে এই বিশাল পারিশ্রমিক এনে দিয়েছে।

আরিফিন শুভ
আরিফিন শুভ ২০১৪ সালে ‘অগ্নি’ ছবির মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হন। তার পারিশ্রমিক ছবিপ্রতি ১৫-২০ লাখ টাকার মধ্যে থাকে, যা তার অবস্থান এবং জনপ্রিয়তা অনুযায়ী ওঠানামাও করে বলে জানালেন সংশ্লিষ্ট প্রযোজক-পরিচালকেরা।। ‘ঢাকা অ্যাটাক’, ‘মিশন এক্সট্রিম’ সহ বিভিন্ন ব্লকবাস্টার সিনেমার জন্য শুভ পরিচিত। যদিও তার পারিশ্রমিক এখনো শাকিবের চেয়ে কম, তবে তাকে মনে করা হয় ঢালিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেতা।

শরীফুল রাজ
মিজানুর রহমানের ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ দিয়ে আলোচিত হন রাজ। এই তারকার প্রথম অভিনীত সিনেমা রেদওয়ান রনির ‘আইসক্রিম’। ‘ন ডরাই’, ‘পরাণ’, ‘হাওয়া’ ছবিগুলোর মাধ্যমে শরীফুল রাজ রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন। রাজ বর্তমানে ১৫-২৫ লাখ টাকা প্রতি সিনেমায় নিচ্ছেন, এবং অনেক সময় তার পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়, বিশেষত তার হিট সিনেমাগুলোর পর। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর সঙ্গে কাজ করা প্রযোজক-পরিচালকেরা।

আফরান নিশো
২০০৫ সালে টিভি নাটকে কাজ শুরু করেন আফরান নিশো। ২০২৩ সালে ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। প্রথম ছবি ‘সুড়ঙ্গ’তেই সফলতা পান তিনি এবং তার অভিনয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। এই সিনেমায় তিনি পারিশ্রমিক নেন ২০-২৫ লাখ টাকা। তার দ্বিতীয় সিনেমা ‘দাগি’ এ বছর ঈদে মুক্তি পাবে, যেখানে তার পারিশ্রমিক আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। তিনি এখন নতুন গুণগত কাজে মনোনিবেশ করছেন।

সিয়াম আহমেদ
সিয়াম প্রথম ‘পোড়ামন ২’ সিনেমা দিয়ে পরিচিতি পান, এবং তার পর থেকে ঢালিউডে একাধিক সফল সিনেমায় কাজ করেছেন এই অভিনেতা। তার প্রথম ‘পোড়ামন ২’ এর জন্য পারিশ্রমিক নেন ৫ লাখ টাকা। বর্তমানে ৮-১২ লাখ টাকার মধ্যে, যা ছবির বাজেট এবং তার খ্যাতি অনুযায়ী ওঠানামা করে। ‘জংলি’ সিনেমার মুক্তি অপেক্ষায় রয়েছে, যার মাধ্যমে তার পারিশ্রমিক আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

জিয়াউল রোশান
জিয়াউল রোশান ২০১৬ সালে ‘রক্ত’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। তার পর থেকে একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন সর্বশেষ মুক্তি পায় ‘মেকআপ’। এখন ছবিপ্রতি ৮-১০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। ঢালিউডে এই নায়ককে ঘিরেও একটা সম্ভাবনা দেখতে পান প্রযোজক পরিচালকেরা। রোশান অভিনীত ছবির প্রযোজক পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছবিপ্রতি তাঁর বর্তমান পারিশ্রমিক ৮-১০ লাখ টাকা।

ইমন
ইমন তার অভিনয়ের জন্য দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন, বিশেষত তার ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘গহিনে শব্দ’, এবং ‘লালটিপ’ ছবির মাধ্যমে। বর্তমানে তার পারিশ্রমিক ৫-৭ লাখ টাকার মধ্যে, যা চলচ্চিত্রের সাফল্য অনুযায়ী কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে তিনি খুব বেশি সিনেমায় কাজ করছেন না, কারণ নতুন ছবির কাজ তার হাতে কমই আছে।

নিরব
নিরব তাঁর প্রথম সিনেমা ‘মন যেখানে হৃদয় সেখানে’। প্রথম ছবিতে পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন দুই লাখ টাকা। এখন তার পারিশ্রমিক ৭-১০ লাখ টাকার মধ্যে, এবং এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজ করছেন। তিনি তার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন ‘বাংলাশিয়া’ ছবিতে, যেখানে তিনি ১৫ লাখ টাকা নিয়েছিলেন।

আদর আজাদ
আদর আজাদ রিয়েলিটি শো ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিনোদন অঙ্গনে প্রবেশ করেন। তার প্রথম চলচ্চিত্র ‘তালাশ’ ছিল বাণিজ্যিকভাবে সফল, এবং তার পারিশ্রমিক বর্তমানে ৩-৫ লাখ টাকার মধ্যে। তিনি আরও কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন, তবে তার ক্যারিয়ার তুলনামূলকভাবে নবীন।

বাপ্পী চৌধুরী ও সাইমন সাদিক
বাপ্পী চৌধুরী এবং সাইমন সাদিক এক সময় ঢালিউডের শীর্ষ অভিনেতা ছিলেন, তবে এখন তারা চলচ্চিত্রে অনিয়মিত। বাপ্পী এখন তার পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন, এবং সাইমন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। তাদের মধ্যে, এক সময় বাপ্পী চৌধুরী ১০-১২ লাখ টাকা প্রতি সিনেমায় নিতেন, এবং সাইমন সাদিকের পারিশ্রমিকও ছিল ৭-১০ লাখ টাকার মধ্যে।
ঢালিউডের নায়কদের পারিশ্রমিকের গতি-প্রকৃতি তারকাদের ক্যারিয়ার, জনপ্রিয়তা, এবং ছবির বাণিজ্যিক সাফল্য অনুসারে পরিবর্তিত হয়। শাকিব খান এখনও ঢালিউডের শীর্ষ তারকা হিসেবে একাধিক কোটি টাকার পারিশ্রমিক দাবি করছেন, তবে অন্যান্য নায়করা তাদের পারিশ্রমিকের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাদের সাফল্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে। নতুন অভিনেতারাও এখন বেশি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন, এবং তাদের পারিশ্রমিক দিনে দিনে বাড়ছে, যা ঢালিউডের বাজারের পেশাদারিত্বের প্রতিফলন।
খবরওয়ালা/এসআর