খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবুও রাজনীতির বলি হতে হলো গোপালগঞ্জের দীপ্ত সাহা, সোহেল ও রমজান কাজীকে। এমন দাবি নিহতদের পরিবারের। তারা বলছে, উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো। চায় দ্রুত বিচার।
গত ১৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের কোটালীপাড়ার হরিণাহাটি গ্রামের রমজান কাজী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন। এরপর তাঁকে ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর বাবা কামরুল কাজী। এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতির শিকার হবেন, কখনো ভাবেননি তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন রমজানের মা-বাবা।
রমজানের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলেকে কাঁধে করে কবরে দিয়ে আসছি। কত কষ্ট আমার।’
রমজানের মামা বলেন, ‘পাশের এক আত্মীয় ফোন দিয়ে বললো, তোর ভাগ্নে গুলি খাইছে, হাসপাতালে যা। আমরা গিয়ে দেখি ভাগ্নে নিচে পড়ে আছে।’
একই রকম যন্ত্রণার গল্প দীপ্ত সাহার পরিবারেও। তাঁরাও বলছেন, কোনো রাজনীতিতে না থেকেও রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হতে হয়েছে দীপ্তকে। তারা চান, দ্রুত বিচার হোক।
দীপ্তর মা বলেন, ‘আমাকে তো কিছুই বলে যেতে পারলো না। হাসপাতালে নাকি বলছে, আমার মাকে একটু দেখান। দেখতে দেয় নাই।’
দীপ্তর বোন বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কোনো তুলনা হয় না। সে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। ব্যবসা করে খাইতো। আমরা এই হত্যার বিচার চাই।’
এদিকে সহিংসতায় নিহত সোহেলের পরিবারও শোকে বাকরুদ্ধ। বারবার ফিরে আসছে একই প্রশ্ন—‘কেন রাজনীতির খেলায় বলি হলো নিরীহ মানুষের জীবন?’
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান আরেক অটোরিকশাচালক রমজান মুন্সী। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। এর আগে বুধবার দুপুরে চৌরঙ্গী লঞ্চঘাট এলাকায় পৌঁছালে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
রমজান মুন্সীর ভাই বলেন, ‘ঝামেলার সময় যাত্রী নিয়ে সিনেমা হলের পাশ দিয়ে আসতে গিয়েছিল। দুটো গুলি খেয়েছে। গোপালগঞ্জ মেডিকেলে ভর্তি করছিলাম। সেখান থেকে রেফার্ড করে ঢাকায় পাঠায়। হাসপাতালে দুই রাত ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৪৫ মিনিটে ব্যথায় মারা গেছে।’
নিহতদের পরিবার বলছে, রাজনীতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও এমন পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না। তারা চায়, যারা এসব ঘটনায় জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হোক—যাতে আর কোনো পরিবারকে এভাবে সন্তান হারাতে না হয়।
খবরওয়ালা/এন