খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে মাঘ ১৪৩২ | ৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মাধ্যমে তিন বোনের জীবন সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গেল। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে, তিন বোন নবম তলার ফ্ল্যাট থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত বোনদের বয়স যথাক্রমে ১২, ১৪ ও ১৬ বছর। পুলিশ ও পরিবারের প্রাথমিক সূত্র অনুসারে, অনলাইনে কোরিয়ান গেম ও সংস্কৃতিতে তাদের অতিরিক্ত আসক্তিই এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
ঘটনার সময়, তিন বোন ফ্ল্যাটের বারান্দায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে জানালা দিয়ে একে একে নিচে লাফ দেয় তারা। তাদের চিৎকারে মা–বাবা, প্রতিবেশী এবং আবাসন কমপ্লেক্সের নিরাপত্তারক্ষীরা রাতের ঘুম ভেঙে যায়। দরজা ভেঙে বারান্দায় প্রবেশ করলেও তখন সব শেষ হয়ে যায়।
লাফ দেওয়ার আগে তারা একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট রেখে গিয়েছিল। নোটে লেখা ছিল—‘সরি পাপা’, সঙ্গে একটি কান্নার ইমোজিও আঁকা ছিল। এছাড়া একটি পকেট ডায়েরিতে আট পৃষ্ঠার মতো তাদের গেমিং অভ্যাস, মোবাইল ব্যবহার এবং মানসিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত ছিল।
সহকারী পুলিশ কমিশনার অতুল কুমার সিং জানান, “ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হই যে চেতন কুমারের তিন মেয়ে ভবন থেকে লাফিয়ে মারা গেছে।”
পরিবারের বরাতে জানা যায়, তিন বোন একটি ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এ মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিল। তারা নিজেদের কোরিয়ান নাম রেখেছিল এবং প্রায় সব কাজ একসাথে করত। তাদের এই আসক্তি কোভিড-১৯ মহামারির সময় থেকেই শুরু হয়। প্রায় দুই বছর আগে তারা স্কুলে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। মেজ বোন প্রাচী (১৪) পরিবার এবং গেমিং উভয় ক্ষেত্রেই নেতৃত্ব দিত বলে মনে করা হচ্ছে।
মা–বাবা তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করার পর, কিছু দিন ধরে ফোন ব্যবহার করতে না পারায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। ঘরের দেয়ালে লেখা “I am very lonely” এবং “My heart is broken” ধরনের বার্তাও পাওয়া গেছে।
চেতন কুমার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ওরা বলেছিল—কোরিয়াই আমাদের জীবন। আমরা এটা ছাড়তে পারব না। এমন ঘটনা যেন আর কোনো বাবা–মায়ের জীবনে না আসে।” তিনি সকল অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা নিমিশ প্যাটেল জানান, এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গেমের নাম নিশ্চিত হয়নি। সুইসাইড নোট এবং ডায়েরির তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত চলমান।
নিহত তিন বোনের সংক্ষিপ্ত তথ্য নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | আনুমানিক গেমিং অভ্যাস | অন্যান্য তথ্য |
|---|---|---|---|
| মেয়ে ১ | ১২ | দৈনিক ৬–৮ ঘণ্টা | ছোট বোন, গেম ও অনলাইনেই বেশি সময় কাটাত |
| প্রাচী | ১৪ | দৈনিক ৮–১০ ঘণ্টা | মেজ বোন, পরিবারের ও গেমের নেত্রী |
| মেয়ে ৩ | ১৬ | দৈনিক ৭–৯ ঘণ্টা | বড় বোন, প্রায় সব কাজ একসাথে করত |
এই মর্মান্তিক ঘটনায় অনলাইনে গেমিং আসক্তি এবং কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নতুন করে আলোচনার জোর তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অভিভাবকদের শিশু ও কিশোরদের অনলাইন ক্রিয়াকলাপ মনিটর করার পাশাপাশি তাদের মানসিক সুস্থতার প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।