খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে মাঘ ১৪৩২ | ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
খাগড়াছড়ি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. মোস্তফা ভোট বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নেন।
মোস্তফা জানান, প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকেই তিনি এবং তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চেয়ে আবেদন করেছিলেন, যা পূরণ করা হয়নি। একইসঙ্গে, তফশিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেননি।
তিনি আরও জানান, নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। জেলার ১৮৯টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মোস্তফা। তার মতে, কেন্দ্রে দখল ও ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি হারিকেন প্রতীকের কর্মী ও সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় তফশিলের বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আসন | খাগড়াছড়ি |
| মোট প্রার্থী | ১১ জন |
| ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র | ১৮৯টি |
| প্রধান অভিযোগ | প্রশাসনের পক্ষপাত, হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তাহীনতা |
| প্রার্থী নিরাপত্তা অনুরোধ | ৮ ফেব্রুয়ারি (গানম্যান) |
| নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া | কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ হয়নি |
| বয়কট ঘোষণা সময় | ১১ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯:৩০ |
মোস্তফা বলেন, “যদি ভোটাররা কেন্দ্রে আসে, তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।” তিনি রাজনৈতিক প্রতিযোগীদেরও শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে মুসলিম লীগ প্রার্থীর বয়কট ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা এবং বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের সতর্ক পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে ভোটের প্রকৃত স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি।