খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৫ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দলীয় কর্মকাণ্ডে হতাশা, অনিয়মের অভিযোগ, না জানিয়ে পদায়ন বা অন্য দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা-এমন নানা কারণ দেখিয়ে গত দুই মাসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে প্রায় ২৫ জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। একই সময়ে কয়েকটি কমিটি স্থগিতও করা হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন দলের একাংশের কেন্দ্রীয় নেতা।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলীয় নিবন্ধনকে কেন্দ্র করে গত ১ জুন ঢাকা মহানগর উত্তরে সমন্বয় কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন শুরু হয়। এখন পর্যন্ত দেশের ৩৩ জেলা ও প্রায় ২০০ উপজেলা সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে দলটি। কমিটি ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরিবারের সদস্যকে পদায়ন, অনিয়মসহ নানা অভিযোগ ওঠে। পরে ফেসবুকে পোস্ট বা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন অনেকে। শুধু সিলেট জেলা থেকেই ৯ জন পদত্যাগ করেন। অভিযোগের মুখে দুটি শাখা কমিটি স্থগিত করা হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর তিন নেতা পদত্যাগ করেছিলেন।
দলীয় নেতারা বলছেন, নিবন্ধনের জন্য তাড়াহুড়া করে কমিটি ঘোষণা করায় যাচাই-বাছাই হয়নি। কেউ কেউ দাবি করছেন, বিএনপি ও জামায়াতপন্থিরা ইচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত হয়ে পরে পদত্যাগ করেছেন যাতে দলকে বিতর্কিত করা যায়।
৯ আগস্ট মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা সমন্বয় কমিটি থেকে চার নেতা-যুগ্ম সমন্বয়কারী শাকিল খান ও সদস্য রিয়াজ রহমান, মহিউদ্দিন ও কাজী রফিক—পদত্যাগ করেন। তারা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, শিবচরে দল পরিচালনার দায়িত্ব অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাতে ন্যস্ত করায় প্রকৃত কর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ১০ আগস্ট ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্য মো. রুবেল মিয়া (হৃদয়) পদত্যাগপত্রে লেখেন, দলের কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
৮ আগস্ট চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী এ ইউ মাসুদ পদ না পাওয়ার ক্ষোভে ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। একই দিনে শরীয়তপুর জেলা কমিটির দুই নেতা তারিকুল ইসলাম ও পলাশ খান ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেন। এর আগে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা কমিটির ইসমাইল হোসাইন ও ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন নিজেদের বিএনপি পরিবারের সদস্য পরিচয় দিয়ে পদত্যাগ করেন।
২৯ জুন মতলব দক্ষিণ উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন, প্রধান সমন্বয়কারী ডি এম আলাউদ্দিনকে জাতীয় পার্টির নেতা আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন। এছাড়া বাগমারা উপজেলা কমিটির তিন সদস্য—হাদিউজ্জামান রাফি, ফুয়াদ হাসান গানিম ও রাবিউল ইসলাম রাহুল—পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে দুইজন জানান, বিএনপি পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও নাম অন্তর্ভুক্ত করায় তারা সরে দাঁড়িয়েছেন।
সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ও নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের ভাই আবুল আহসান জাবুরসহ ৯ জন পদত্যাগ করেন। ১২ জুলাই কমিটি ঘোষণার পরদিন বিশ্বনাথ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা থেকে চারজন এবং ২১ জুলাই গোয়াইনঘাট থেকে আরও চারজন পদত্যাগ করেন।
দল গঠনের পরপরই তিন কেন্দ্রীয় নেতা আবু হানিফ, হানিফ খান সজীব ও আব্দুজ জাহের পদত্যাগ করে আগের দলে ফিরে যান। এ ছাড়া শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে মাদারীপুর জেলা ও সদর উপজেলা কমিটি স্থগিত এবং দুই সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়। শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে কমিটি গঠনের দুদিন পর তা স্থগিত হয়।
বেশিরভাগ পদত্যাগ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হয়নি। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, কারও পদত্যাগপত্র তার হাতে আসেনি। দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মোহাম্মদ রাকিবের মতে, জামায়াত-শিবির ও বিএনপিপন্থিদের একটি অংশ সুযোগ বুঝে পদত্যাগ করে দলকে বিতর্কিত করেছে।
আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রাজশাহী জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী নাহিদুল ইসলামকে মারধরের ঘটনায় সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছয় মাসে ১০ জন কেন্দ্রীয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দল।
শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান আবদুল্লাহ আল-আমিন বলেন, অভিযোগ পেলে শোকজ দেওয়া হয়, জবাবের ভিত্তিতে সতর্কবার্তা বা কমিটি বাতিল ও বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। লোকাল পর্যায়ে ভয়ভীতি ও চাপের কারণে কেউ কেউ পদত্যাগ করছেন। সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ জানান, অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে শৃঙ্খলা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং সংগঠন গোছানোর দিকে মনোযোগ দেবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন