খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজা থেকে পালিয়ে আসা ৬ সদস্যের একটি পরিবারকে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির অভিবাসন আদালত। গত জানুয়ারিতে ইউক্রেনীয় স্কিমের আওতায় তাদের আবেদন মঞ্জুর করার পর, বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর। স্বরাষ্ট্র সচিব ক্রিস ফিলপ মনে করেন, মানবাধিকার আইনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যাতে বিচারকদের পরিবর্তে সংসদই সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে কারা যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে পারবে।
খবরটি ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত হয়েছে।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনীয় প্রকল্পের আওতায় আবেদন করার পর প্রথমে তাদের আবেদন ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র দপ্তর প্রত্যাখ্যান করে। তবে পরবর্তীতে অভিবাসন আদালত তাদের থাকার অনুমতি দেয় এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন করার রায় প্রদান করে।
ফিলিস্তিনির এই পরিবারটিতে বাবা-মাসহ সাত থেকে আঠারো বছর বয়সী চার সন্তান রয়েছে। তাদের বাড়িঘর ইসরায়েলের বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং তারা গাজার একটি শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিল, যেখানে তারা হুমকির মুখে ছিল।
ইউক্রেনীয় প্রকল্পের আবেদন পত্র ব্যবহার করে তারা দাবি করেছিল যে তাদের পরিস্থিতি এতটাই ‘বাধ্যতামূলক এবং সহানুভূতিশীল’ যে আবেদনটি প্রকল্পের নিয়মের বাইরে মঞ্জুর করা উচিত।
২০২২ সালের মার্চ মাসে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনীয়দের সহযোগিতা করার জন্য ইউক্রেনীয় নাগরিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাজ্যে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যাদের কোনো আত্মীয় ব্রিটিশ নাগরিক বা যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পটি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ৭২ হাজার ভিসা দেওয়া হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে, একটি নিম্ন-স্তরের অভিবাসন ট্রাইব্যুনাল তাদের আবেদন বাতিল করেছিল, কারণ এটি ইউক্রেনীয় প্রকল্পের আওতায় পড়ত না এবং পুনর্বাসন প্রকল্পের সুবিধা কোন দেশগুলো পাবে তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব পার্লামেন্টের।
তবে, উচ্চ আদালতের বিচারক হুগো নর্টন-টেলর ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন এবং ফিলিস্তিনিদের আপিল মঞ্জুর করেন। তিনি ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ECHR) এর অধীনে পারিবারিক জীবনের ৮ নম্বর ধারার ভিত্তিতে তাদের যুক্তরাজ্যে আসার অনুমতি দেন।
তিনি বলেন, ‘চরম এবং জীবন-হুমকিপূর্ণ’ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তির পরিবারের অধিকার যুক্তরাজ্যে প্রবেশের নিয়মের ‘জনস্বার্থের’ চেয়ে বেশি, যা পুনর্বাসন প্রকল্প সীমিত করার এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি হয়েছিল।
এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রায় সত্ত্বেও, গাজার লোকদের জন্য কোনো পুনর্বাসন প্রকল্প ছিল না এবং ভবিষ্যতেও তারা একই ধরনের দাবির বিরোধিতা করবে।
স্বরাষ্ট সচিব ক্রিস ফিলপ বলেছেন, এটি ‘উদ্বেগজনক এবং বিপজ্জনক’ রায়। এই রায়ের মাধ্যমে ‘বিশ্বের যেকোনো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী যে কেউ যুক্তরাজ্যে আসার জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছে’।
‘শুধু গাজায় দুই মিলিয়ন মানুষ এবং বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী, যাদের অনেকেরই যুক্তরাজ্যে আত্মীয়স্বজন থাকবে। আমরা স্পষ্টতই তাদের সকলকে গ্রহণ করতে পারব না,’ তিনি বলেন।
‘যুক্তরাজ্য ইউক্রেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান এবং হংকংয়ের মানুষদের নির্দিষ্ট মানবিক প্রকল্পের মাধ্যমে উদারভাবে সাহায্য করেছে। তবে মানবাধিকার আইনের অভিনব এবং বিস্তৃত ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করে বিচারকদের নিয়োগ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়,’ তিনি যোগ করেন।
মানবাধিকার আইনে আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আগের চেয়ে স্পষ্ট যে, মানবাধিকার আইনে আমূল পরিবর্তন আনা প্রয়োজন—তাহলে যুক্তরাজ্যে আসার যোগ্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত বিচারকদের নয়, সংসদের নেওয়া উচিত। এখন গাজায় যুদ্ধবিরতি চলছে, আমি আশা করি সরকার নতুন তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে।’
খবরওয়ালা/জেআর