খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকার গুগলকে কন্টেন্ট অপসারণের অনুরোধ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, দেশের সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো নিউজ, ভিডিও, রিলস বা রাজনৈতিক সমালোচনামূলক পোস্ট সরানোর জন্য সরকার কোনো অনুরোধ করেনি। শুধুমাত্র মিসইনফরমেশন, প্রোপাগান্ডা বা বেআইনি মানহানিকর তথ্যের ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা বিটিআরসির মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মকে অনুরোধ করেছে।
জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সময়কালে গুগলের ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে মোট ২৭৯টি কন্টেন্ট অপসারণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, আওয়ামী লীগের শেষ সরকারের একই সময়ে পাঠানো অনুরোধের সংখ্যা ছিল ৮৬৭। এছাড়া, ৬৫% অনুরোধ ‘Not enough information’ ক্যাটাগরিতে পড়ে, যা নির্দেশ করে যে এগুলো বিশেষ উদ্দেশ্যপূর্ণ ছিল না।
এই সময়ে বাংলাদেশ মিসইনফরমেশন এবং প্রোপাগান্ডা হামলার মুখোমুখি হয়েছিল, বিশেষত প্রতিবেশী দেশের মিডিয়ার মাধ্যমে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও অনলাইন প্রচারণা ও মিসইনফরমেশন বেড়েছিল। সরকারের লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং নাগরিকদের সাইবার নিরাপত্তা রক্ষা করা।
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট ডাউন করার ক্ষমতা কোনো জাতীয় সংস্থার নেই, তাই গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে রিপোর্ট করতে হয়। একইসাথে, সরকারের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এবং বিশ্বব্যাংক ও ফ্রিডম হাউসের রিপোর্টে স্বীকৃত। Freedom on the Net 2025 অনুযায়ী বাংলাদেশ ইন্টারনেট স্বাধীনতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যা দেশের বাকস্বাধীনতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সূচক।