খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রবেশদ্বার এলাকায় সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘটনা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, চারজন দুর্বৃত্ত দুইটি মোটরসাইকেলে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটের দিকে এগিয়ে আসে এবং হঠাৎ ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত শহরের দিকে পালিয়ে যায়।
বিস্ফোরণের সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং ধোঁয়ার চাদর সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ স্থানে দৌড়ে চলে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীব ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, “এ ধরনের কার্যক্রম মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এমন ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটার সুযোগ আমরা দেব না।”
জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রাত ১২টা ৫ মিনিটে খবর পেয়ে তারা ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছান। বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, এবং কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে ককটেল বিস্ফোরণের ফলে গেট এলাকা ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং কিছু শিক্ষার্থী সাময়িক আতঙ্কে পড়ে।
ঘটনার প্রাথমিক তথ্যাবলী নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা তারিখ ও সময় | সোমবার রাত, পৌনে ১০টা |
| ঘটনা স্থান | গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রধান গেট |
| ঘটক সংখ্যা | ৪ জন |
| যানবাহন | ২টি মোটরসাইকেল |
| ক্ষয়ক্ষতি | কোনো হতাহত বা সম্পত্তি ক্ষতি হয়নি |
| নিরাপত্তা বাহিনী | জেলা পুলিশ ও সেনাবাহিনী |
| তদন্ত অবস্থা | সিসি ক্যামেরা ফুটেজ যাচাই ও দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াধীন |
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কাজ করছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রহরা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং প্রবেশপথে অতিরিক্ত নজরদারি চালু করা হয়েছে।
এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদিও উদ্বিগ্ন, তবুও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও পুলিশের উপস্থিতি তাদের আশ্বস্ত করেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা রোধের জন্য প্রাঙ্গণজুড়ে নজরদারি বৃদ্ধি করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা সর্বাধিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মনোবল ও নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে সজাগ অবস্থায় রয়েছে।