খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: বিইআরসি কর্তৃক শিল্পে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির শুনানিতে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ শুনানিতে ব্যবসায়ী, ক্যাবের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা শুনানি বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন।
প্রথমে পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে তাদের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এরপর বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির পক্ষে তাদের উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
বেলা ১২টায় শুনানির জেরা পর্ব শুরু হয়।
প্রথমেই ক্যাবের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এই প্রস্তাব অযৌক্তিক ও ভয়ংকর গণবিরোধী।’ তিনি দাবি করেন, আমদানি নির্ভরশীলতার কারণে জ্বালানি খাতসহ পুরো দেশ ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং তা না হলে গণশুনানিই অবৈধ বলে উল্লেখ করেন।
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরপরই উপস্থিত ব্যবসায়ীরা ‘প্রহসনের শুনানি বন্ধ করো’, ‘মানি না, মানব না’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে ড. শামসুল আলম ৩ দফা দাবি উত্থাপন করে শুনানি থেকে ওয়াকআউট করেন।
এরপর সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বক্তব্য দিতে আসেন। এ সময় কিছু শিক্ষার্থী ও শিল্প মালিকরা প্রতিবাদ শুরু করেন এবং শুনানি বন্ধের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিইআরসি চেয়ারম্যান বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে উত্তেজনা না থামায় তিনি নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই মধ্যাহ্ন বিরতির ঘোষণা দিয়ে সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
বেলা ২টায় পুনরায় শুনানি শুরু হয়। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে শিল্প কারখানার বয়লারের জন্য ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫.৭২ টাকা এবং ক্যাপটিভ জেনারেশনের জন্য ৩১.৭৫ টাকা থেকে ৭৫.৭২ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে শুনানি অব্যাহত রয়েছে।
পেট্রোবাংলার দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলেছে, প্রতি ঘনমিটার এলএনজির বর্তমান আমদানি মূল্য পড়ছে ৬৫.৭০ টাকা। ভ্যাট-ট্যাক্স ও অন্যান্য চার্জ যোগ করলে দাঁড়ায় ৭৫.৭২ টাকা। ফলে এ খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে গ্যাসের প্রাইস গ্যাপ কমাতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এলএনজি আমদানি করলে চলতি অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ঘাটতি হবে প্রায় ১৬ হাজার ১৬১ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
পেট্রোবাংলা দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দেশীয় গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ায় শিল্প ও ক্যাপটিভ বিদ্যুতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে দেশীয় গ্যাসফিল্ডগুলো থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৭৫ শতাংশের মতো, অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ এলএনজি আমদানি করে করা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে এবং এলএনজি আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। ২০৩০-৩১ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭৫ শতাংশে।
ব্যবসায়ী ও অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেছেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর এই প্রস্তাব আগামী রবিবারের মধ্যে খারিজ করতে হবে। অন্যথায় তারা আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
খবরওয়ালা/এমবি