খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
বর্ষাকালে বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে জ্বরও যেন ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়ার হঠাৎ গরম, আবার বৃষ্টি—এই অবস্থায় শিশু থেকে বয়স্ক, সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, করোনা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, জিকা, শ্বাসতন্ত্র এবং পানিবাহিত সংক্রমণের কারণে একসঙ্গে ৫ থেকে ৭ ধরনের জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা গেল—শুধুই জ্বরে ভোগা রোগীর ভিড়। কেউ এসেছেন বাচ্চাকে নিয়ে, কেউ নিজেই দাঁড়িয়ে থাকতে পারছেন না। গৃহচালক শোভন মিয়া (৩৬) চার দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত; শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা, বমি ভাব, দুর্বলতা—ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছেন না। একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা মঞ্জুর হোসেন (৫০) ছয় দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। জোহরা বেগম তার ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে এসেছেন, সেও সাত দিন ধরে অসুস্থ।
ইমেরিটাস অধ্যাপক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, এই সময়ে ভাইরাসঘটিত জ্বর বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, টনসিলাইটিস এবং সাইনোসাইটিস থেকেও জ্বর হচ্ছে। বিশেষত বাচ্চা, বয়স্ক এবং যাদের আগে থেকেই শ্বাসতন্ত্রজনিত বা ক্রনিক রোগ রয়েছে—তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় জ্বর তীব্র, হাড়-গিটে ব্যথা থাকে। ডেঙ্গুতে চোখের পেছনে ব্যথা ও রক্তক্ষরণ হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, চিকুনগুনিয়ায় জয়েন্টে ব্যথা থাকে বেশি, কিন্তু রক্তক্ষরণ সাধারণত হয় না। করোনায় গলা খুসখুসে থাকে, ইনফ্লুয়েঞ্জায় শরীর ম্যাজম্যাজ করে, মাথাব্যথা তুলনামূলক কম। ফলে উপসর্গ মিল থাকলেও রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অপরিহার্য।
ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, “এই সময়কার জ্বরগুলো নিয়ে ভয় না করে সঠিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অবহেলা করলে ছোট জ্বরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।”
বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে অধ্যাপক ডা. আবেদ হোসেন খান বলেন, “আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন ও ভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জ্বর হলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে। একই উপসর্গে একাধিক রোগ দেখা দিচ্ছে বলে বিভ্রান্তি বাড়ছে। পরীক্ষা নেগেটিভ এলেও অনেক সময় উপসর্গ থেকে যাচ্ছে।”
চিকিৎসকরা বলছেন, ভাইরাস জ্বর থেকে বাঁচতে হলে সচেতন থাকতে হবে। পরামর্শগুলো হলো:
ঘুমের সময় মশারি ব্যবহার, জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, বাড়িঘর নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং মাস্ক পরা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।
তারা আরও বলেন, তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে অবশ্যই ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার পরীক্ষার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, গর্ভবতী নারী, লিভার বা হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে জ্বর হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
খবরওয়ালা/টিএসএন