খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট ২০২৫
রাজনৈতিক দলগুলো এখনো আধিপত্য বিস্তার, দখল এবং চাঁদাবাজির পুরোনো সংস্কৃতি চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ মন্তব্য করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও দখলদারির সংস্কৃতি এবং জাতীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতিসহ একাধিক খাত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার ৫৩টি পরিবহন স্ট্যান্ড ও টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হচ্ছে। এই চাঁদাবাজি কার্যক্রম রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পরিচালিত দখলদারি সংস্কৃতির বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
বিচার ব্যবস্থার অবস্থা তুলে ধরে বলা হয়, প্রত্যাশিত সংস্কার এখনো হয়নি। বিচারপতি ও আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। কিছু ঘটনায় তাড়াহুড়ো করে বিচার সম্পন্ন করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা এবং আইনজীবীদের হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে টিআইবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের মধ্যে দায়িত্ব পালনের অনীহা ও পক্ষপাতমূলক আচরণ লক্ষ্য করা গেছে, যা জনআস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রমেও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ স্পষ্টভাবে বিদ্যমান বলে মন্তব্য করে টিআইবি। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আর সুশাসনের অভাব পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দুর্বল করে তুলেছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়কালে স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। বরং নানা পথেই নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হয়েছে। এই সময়ে আটটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ১১টি বেসরকারি টেলিভিশনের বার্তা প্রধান এবং প্রায় ১৫০ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন।
এই সময়ের মধ্যে দেশে মোট ৪৭১টি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রাণ গেছে ১২১ জনের, আহত হয়েছেন ৫ হাজার ১৮৯ জন। সংঘর্ষে বিএনপি জড়িত ৯২ শতাংশ ঘটনায়, আওয়ামী লীগ ২২ শতাংশ, জামায়াতে ইসলামী ৫ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জড়িত ১ শতাংশ ঘটনায়। (উল্লেখ্য, একাধিক ঘটনায় একাধিক পক্ষ জড়িত ছিল।)
টিআইবি বলছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংলাপে অংশ নেওয়া দলগুলো দলীয় স্বার্থ থেকে বেরিয়ে আসেনি। জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি, সংস্কার প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা ছিল না।
ঘোষিত ১১টি জাতীয় সংস্কার কমিশনের মধ্যে স্পষ্ট বৈষম্য দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিচার, সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের মতো প্রথম দফার ছয়টি সংস্কার কমিশনকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত উপেক্ষিত থেকেছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড