খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসের আগমনে রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজার আবারও মুখর হয়ে উঠেছে ইফতারের আনন্দে। দীর্ঘক্ষণ পানাহার থেকে বিরত থাকার পর রোজাদারদের মুখে হাসি ফোটাতে এ বাজারে আয়োজন করা হয় ভিন্নরকম ইফতার। চারশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাজারের ইফতারি এখন শুধু স্বাদ নয়, সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক।
চকবাজারের ইফতারে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করেন, যাতায়াতের জটিলতা সত্ত্বেও। বাজারে রয়েছে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’, সুতি কাবাব, মোরগ পোলাও, হালিম, পেস্তা শরবতসহ অসংখ্য রকমের খাবার। রোজাদারদের পছন্দের এ সব খাবার শুধুমাত্র স্বাদেই নয়, ভিড়ের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী পরিবেশও বিশেষ আনন্দ জোগায়।
এক নজরে চকবাজারের জনপ্রিয় ইফতারি পদের তালিকা:
| পদ | বিশেষত্ব |
|---|---|
| মোরগ পোলাও | মসলা ও ঘি সমৃদ্ধ, জনপ্রিয় রোজার খাবার |
| গরুর কাবাব | মশলাদার, গ্রিলড কাবাব |
| চিকেন রোস্ট | খাসা মশলার সাথে ভাজা মুরগি |
| বিফ হালিম | চিরকালীন রমজানের প্রিয় হালিম |
| নেহারি | মাংস ও মশলার সমাহারে সেদ্ধ নেহারি |
| বোরহানি | টক-মিষ্টি পানীয়, রোজার তৃষ্ণা দূর করে |
| দই বড়া | ক্রিস্পি ও নরম, দইয়ের সাথে পরিবেশন |
| শাহী জিলাপি | ঘি ও চিনি মিশিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন |
চকবাজারের ইফতারের মূল আকর্ষণ হলো ব্যবসায়ীদের ঐতিহ্যবাহী দায়বোধ। অধিকাংশ ব্যবসায়ী প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মো. সিরাজ মিয়া, যিনি ৫০ বছর ধরে ঝালমুড়ি বিক্রি করছেন, রমজান এলেই চেহারা বদলে ইফতারি বিক্রি করেন। তিনি জানান, “আমাদের বাবা-দাদার আমল থেকে এই ব্যবসা চলে আসছে। শুধুই লাভের হিসাব নয়, ঐতিহ্য ধরে রাখাও আমাদের দায়িত্ব।” বর্তমানে তিনি দৈনিক ৬০–৭০ হাজার টাকার ইফতার বিক্রি করছেন।
শফিকুল ইসলাম নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের পরিবার বহু বছর ধরে ইফতারি বিক্রি করছে। এটি শুধু ব্যবসা নয়, আমাদের পরিচয়। আমরা চেষ্টা করি ঐতিহ্য ধরে রাখতে।”
চকবাজারের ব্যবসায়ীরা মনে করেন, মুঘল আমল থেকে এখানে ইফতারের আয়োজন হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে আয়োজনের ধরন, বেড়েছে পদসংখ্যা, তবু ঐতিহ্য এবং স্বাদ আগের মতোই অটুট।
রমজানের প্রতিটি সন্ধ্যায় চকবাজারে খুশির ছটা মেশানো থাকে সুগন্ধ, ভিড় এবং প্রাণবন্ত আলোয়। এটি শুধুমাত্র খাবারের বাজার নয়, এটি রমজানের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মিলনের এক অনন্য কেন্দ্র।