খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে চৈত্র ১৪৩২ | ১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার অনন্যা আবাসিক এলাকার পাশের একটি গার্মেন্টস-সংলগ্ন ঝুট গুদামে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল গুদামে প্রবেশ করে প্রথমে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেয় এবং পরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে দিনের ব্যস্ত সময়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগানোর আগে ওই দলটি বেশ সংগঠিতভাবে গুদামে ঢুকে পড়ে এবং কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই কর্মচারীদের সরিয়ে দেয়। এরপর তারা একটি বোতলে থাকা দাহ্য পদার্থ ছড়িয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটতে পারে। গত রমজান মাসে গুদাম মালিকের কাছে একটি পক্ষ চাঁদা দাবি করেছিল বলে জানা গেছে। তবে মালিক তখন কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি বা পুলিশের সহযোগিতা চাননি।”
স্থানীয় বাসিন্দা শওকত হোসেন জানান, “দুপুরের আগে হঠাৎ করেই কয়েকজন লোক এসে গুদামে আগুন দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়, তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম নগরে ঝুট গুদামগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদাবাজ চক্রের লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে। দাহ্য উপকরণে ভরপুর এসব গুদাম সহজেই অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হতে পারে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ঝুঁকি।
নিচে সাম্প্রতিক সময়ের অনুরূপ কয়েকটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো—
| সময়কাল | স্থান | ঘটনার ধরন | সম্ভাব্য কারণ |
|---|---|---|---|
| ২০২৫ সালের শেষভাগ | পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম | ঝুট গুদামে অগ্নিসংযোগ | চাঁদা না দেওয়া |
| ২০২৫ সালের শেষভাগ | বায়েজিদ, চট্টগ্রাম | ঝুট গুদামে অগ্নিসংযোগ | চাঁদাবাজি |
| ২০২৬ (বর্তমান) | চান্দগাঁও, চট্টগ্রাম | ঝুট গুদামে অগ্নিসংযোগ | চাঁদা দাবির বিরোধ |
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এ ধরনের অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ব্যবসায়ীদেরও যেকোনো ধরনের হুমকি বা চাঁদা দাবির ঘটনায় দ্রুত আইনগত সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।