খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে একটি ট্রাকের ধাক্কায় কাওসার হোসেন সম্রাট (৩৫) নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা ঘটেছে বড়উঠান ডাকপাড়া এলাকায়, যখন তিনি মোটরসাইকেলে করে দৌলতপুর এলাকার নিজ বাড়ির দিকে রওনা হচ্ছিলেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাওসার হোসেন দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রুহুল আমিনের ছেলে। যদিও তার মূল গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি পরিবারসহ কর্ণফুলীর দৌলতপুর এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাতরী চৌমুহনী বাজার থেকে মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় ডাকপাড়া এলাকায় উল্টোপথে আসা একটি অজ্ঞাত ট্রাক তার মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের শেষকৃত্য জুমার নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে কর্ণফুলী উপজেলায় দাফন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ট্রাক চালকের খোঁজ চলছে।
নিহতের পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা শোকপ্রকাশ করেছেন। আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
নিচের টেবিলে দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্যের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | কাওসার হোসেন সম্রাট |
| বয়স | ৩৫ বছর |
| পেশা | আইনজীবী |
| দুর্ঘটনার স্থান | বড়উঠান ডাকপাড়া, কর্ণফুলী, চট্টগ্রাম |
| দুর্ঘটনার সময় | ১২ মার্চ, রাত ১০:৩০ |
| মোটরসাইকেল চালক | নিহত কাওসার হোসেন সম্রাট |
| পরিবারের সদস্য | স্ত্রী ও দুই কন্যা |
| হাসপাতালে মৃত ঘোষণা | হ্যাঁ |
| দাফনের স্থান | কর্ণফুলী উপজেলা |
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উল্টোপথে চলাচল এবং রাতের অন্ধকারে দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকটির পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত মামলা দায়ের করা হবে।
এই দুর্ঘটনা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় যানজট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা পুনঃপ্রকাশ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন, জনসাধারণ এবং আইনজীবী সমিতি দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
মোটরসাইকেল ও ট্রাক দুর্ঘটনায় প্রতি বছর বহু মানুষ আহত ও নিহত হন। স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি ও সচেতনতার অভাব এই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।