খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে কার্তিক ১৪৩২ | ৭ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে গত ১৩ মাসে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ঘটনা ১০টি। রাজনৈতিক বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে শহরে খুনোখুনির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতারা উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে নির্বাচনী জনসংযোগের সময় বিএনপির প্রার্থীর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি এবং নৈরাজ্যের মাধ্যমে সুবিধা হাসিলের চেষ্টা করছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের চালিতাতলী এলাকায় বিএনপির প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হন। সেই একই এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ইদ্রিস আলী নামের এক রিকশাচালককে হাঁটুতে গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
এর আগে বুধবার রাতে রাউজান উপজেলার বাগোয়ান এলাকায় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী, এবং বাকি দুজন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী।
গত ১৩ মাসে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে চট্টগ্রামে ১০টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সাতটি রাউজানে ঘটেছে। রাউজানে নিহতরা হলেন আলমগীর আলম, আবদুল হাকিম, কমর উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম, মানিক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ সেলিম ও দিদারুল আলম। এছাড়া মিরসরাইয়ে এবং বাকলিয়া এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষেও নিহত হয়েছেন সদস্যরা। খুলশীতে ব্যানার টাঙানোর ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবদলের একজন কর্মী মারা যান।
পাঁচজন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীও গত ১৩ মাসে রাউজানে নিহত হয়েছেন। স্থানীয় নেতারা বলছেন, বিএনপির প্রার্থীকে গুলি করার ঘটনায় রাজনৈতিক বিরোধ কাজ করেনি, এটি দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের ফল। তবে জাতীয় নির্বাচনকে বিলম্বিত করার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রে এটি প্রভাব ফেলতে পারে।
বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এবং নগর আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন নির্বাচনী জনসংযোগে গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে সরোয়ার হোসেন নিহত হন। পুলিশ জানায়, সরোয়ারের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা রয়েছে।
সরাসরি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে নয়, বরং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং অপরাধ প্রবণতার কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি নেতা ও যুবদল সদস্যদের ফেসবুক পোস্ট ও মিছিল-সমাবেশের ছবি-ভিডিওতে সরোয়ারের অংশগ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন থানায় ৯৪৫টি অস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে ৭৮০টি উদ্ধার করা গেছে। উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রগুলো বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার হতে পারে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে অপরাধীরা প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার না করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন