খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৬ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরাসরি জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য নির্মিত পাইপলাইন সফল প্রাক-কমিশনিং শেষে আজ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি পরিবহন খাতে নতুন যুগের সূচনা হলো। আগে নৌপথে ঢাকায় তেল পৌঁছাতে ৪৮ ঘণ্টা লাগলেও পাইপলাইনে সময় লাগবে মাত্র ১২ ঘণ্টা।
এই ব্যবস্থায় বছরে সাশ্রয় হবে ২২৬ কোটি টাকা। বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সকালে চট্টগ্রামের গুপ্তখালে পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডেসপাস টার্মিনালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল মুহাম্মদ হাসান-উজ-জামান উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে একনেক অনুমোদিত ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে, কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ হয়। খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা।
প্রকল্পে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের ২৪১.২৮ কিলোমিটার এবং গোদনাইল থেকে ফতুল্লা পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি ব্যাসের ৮.২৯ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। ২২টি নদী ও খাল অতিক্রম করা ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নেটওয়ার্কে ৯টি স্টেশন এবং ২৮৬.৮৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পথে কুমিল্লার মোগবাড়ীতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ডিপো, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভার এবং ফতুল্লায় যমুনা ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিজার্ভার নির্মাণ হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানির প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুল হক জানান, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষামূলক পরিবহনে কোনো সিস্টেম লস ছাড়াই প্রায় ৫ কোটি লিটার ডিজেল সরবরাহ করা হয়। পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা ২.৭ থেকে ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন, যা ভবিষ্যতে ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ মেট্রিক টন তেল পরিবহন সম্ভব।
আগে নৌপথে তেল পরিবহনে মাসে ১১০টিরও বেশি ট্যাংকার ব্যবহার হতো, বিপিসির বার্ষিক খরচ হতো প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা। পাইপলাইন চালুর পর খরচ নেমে আসবে ৯০ কোটি টাকায়, ফলে বছরে অন্তত ২২৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এছাড়া সিস্টেম লস ও চুরি রোধ করেও খরচ কমবে। পাইপলাইনের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে ঢাকায় জ্বালানি সরবরাহের প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন