খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে মাঘ ১৪৩২ | ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকনকে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে।
ইব্রাহীম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার আটক ঘটেছে এমন সময়ে যখন তিনি এবং তার সমর্থকরা এনসিটির ইজারা বাতিলের দাবিতে বন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবাদ ও ধর্মঘট চালাচ্ছেন। বিশেষত, গত রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার ঠিক পরেই তার এই আটক ঘটে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, “র্যাবের একটি দল ইব্রাহীম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ইব্রাহীম খোকন আটক হওয়ার প্রেক্ষাপট
| তারিখ | ঘটনা | বিস্তারিত |
|---|---|---|
| ৩১ জানুয়ারি | কর্মবিরতি শুরু | বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এনসিটির বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগের প্রতিবাদে বন্দর এলাকায় ধর্মঘট ঘোষণা করে। |
| ১-৭ ফেব্রুয়ারি | আন্দোলনের সম্প্রসারণ | ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে শ্রমিক আন্দোলন বৃহৎ রূপ নেয়। |
| ৮ ফেব্রুয়ারি | ধর্মঘট স্থগিত | শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়। |
| ৯ ফেব্রুয়ারি | ইব্রাহীম খোকন আটক | বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। |
চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ও অন্যান্য শ্রমিক সংগঠন ইব্রাহীম খোকনের আটককে তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। রবিবার বন্দরের পাঁচ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করার পর আজ ইব্রাহীম খোকনকে আটক করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উস্কানি দেওয়া হচ্ছে।” তারা অবিলম্বে খোকনসহ সকল আটক শ্রমিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন।
বিবৃতিতে এই দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন:
এ এম নাজিম উদ্দিন ও কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার (জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল)
তপন দত্ত (টিইউসি)
এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান (স্কপ)
খোরশেদুল আলম, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, নুরুল আবসার তৌহিদ ও অন্যান্য শ্রমিক নেতা
চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় এই পরিস্থিতি সাময়িক শান্তি ও শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার দিকে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, ন্যায্য দাবির প্রতি উদাসীনতা শুধু সমস্যাকে জটিল করবে।