খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২২ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ধীরগতির ওভার রেট বজায় রাখার কারণে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আর্থিক জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ধীরগতিতে ওভার সম্পন্ন করায় দলের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ দল দুই ওভার কম সম্পন্ন করতে পেরেছে। ফলে আইসিসির আচরণবিধির ২.২২ ধারা অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করা হয়। এই ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে প্রতি ওভার কম করার জন্য ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ করে জরিমানা ধার্য করা হয়। সে হিসেবে দুই ওভার কম হওয়ায় মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় দশ শতাংশ।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়ায় এই বিষয়ে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। ফলে সরাসরি শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
মাঠে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা এই অভিযোগ উত্থাপন করেন। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বিষয়টি ম্যাচ রেফারির কাছে পাঠানো হয় এবং পরবর্তীতে শাস্তির সিদ্ধান্ত আসে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ম্যাচ | নিউজিল্যান্ড বনাম বাংলাদেশ (দ্বিতীয় ওয়ানডে) |
| দল | বাংলাদেশ |
| অপরাধ | ধীরগতির ওভার রেট |
| ঘাটতি | ২ ওভার |
| জরিমানার হার | প্রতি ওভারে ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ |
| মোট জরিমানা | ১০ শতাংশ |
| ম্যাচ রেফারি | অ্যান্ডি পাইক্রফট |
| অধিনায়ক | মেহেদী হাসান মিরাজ |
| শাস্তি গ্রহণ | স্বীকারোক্তির মাধ্যমে গ্রহণ |
মাঠে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ এবং গাজী সোহেল, যারা মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে নিতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে মাসুদুর রহমান মুকুল দায়িত্ব পালন করেন। তাদের যৌথ পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টের ভিত্তিতেই ধীরগতির ওভার রেটের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ দিক। এটি ম্যাচের গতি, সম্প্রচার সূচি এবং দর্শকদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এই নিয়ম ভঙ্গ করলে দলগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ দল এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচে ধীরগতির ওভার রেটের কারণে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ফিল্ড সেটিং, বোলিং পরিবর্তন এবং রিভিউ ব্যবস্থার কারণে সময় ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আইসিসি নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে থাকে যাতে ম্যাচের গতি স্বাভাবিক থাকে।
এই ঘটনায় বাংলাদেশের জন্য আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দলীয় ব্যবস্থাপনা ও সময় নিয়ন্ত্রণের দিকেও বাড়তি মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এসেছে।