খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
সঞ্জীব চৌধুরী বাংলা সংগীতের এক অমর শিল্পী। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের মাকালকান্দিতে জন্মগ্রহণ করেন। লেখাপড়ায়ও ছিলেন মেধাবী; মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে তিনি মেধাতালিকায় জায়গা করেছিলেন। ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হলেও সৃজনশীল আগ্রহে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় চলে আসেন। সাংবাদিকতা ও সংগীত—দুটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
সংগীতে সঞ্জীব চৌধুরী মানুষের অনুভূতিকে সরাসরি স্পর্শ করেছেন। প্রেম, বিরহ, ভালোবাসা এবং প্রতিবাদের সুরগুলোকে তিনি নিজের ভাষায় তুলে এনেছেন। বাপ্পা মজুমদারের সুরে গান ‘আমি তোমাকেই বলে দেব’ আজও মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। “আমি কাউকে বলিনি সে নাম / কেউ জানে না, না জানে আড়াল”—এই লাইনগুলোই প্রমাণ যে, নাম না বলেও অনুভূতি প্রকাশ সম্ভব।
সঞ্জীব সংগীতচর্চা শুরু করেছিলেন শঙ্খচিল দলে, পরে বাপ্পা মজুমদারের সঙ্গে গঠন করেন ব্যান্ড দলছুট, যার প্রথম অ্যালবাম আহ ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়। এরপর হৃদয়পুর, স্বপ্নবাজি, আকাশচুরি, জোছনা বিহার ইত্যাদি অ্যালবাম প্রকাশ পায়। এছাড়া কবিতা, ছোটগল্প ও নাটকের মাধ্যমে তিনি শিল্পীর নানা পরিচয় তুলে ধরেছেন।
২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর মাত্র ৪৩ বছর বয়সে সঞ্জীব চৌধুরী আমাদের ছেড়ে গেলেন। তবে তার গান, শিল্প ও আবেগ আজও একই তেজে প্রাসঙ্গিক। সামাজিক মাধ্যমে ও কনসার্টগুলোতে নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা এখনও তার গান গেয়ে তাকে স্মরণ করেন। নাম না বললেও ভালোবাসা ও অনুভূতির সুর পৌঁছে যায়—সঞ্জীব চৌধুরীর শিক্ষা আজও জীবন্ত।