খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 25শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতি উন্মোচনে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন দেশের সাংবাদিকরা। সত্য প্রকাশে নানাভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, কথায় কথায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি সরকারি কর্মকর্তা বা পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতির খবর প্রকাশের পরও সহিংসতা বাড়ছে। অনেককে তলব, হামলা বা হত্যার মুখেও পড়তে হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে, বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। টিআইবির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। একই সময়ে অন্তত তিনজন দায়িত্ব পালনের সময় হামলায় নিহত হন, যা তুহিন হত্যার পর বেড়ে দাঁড়ায় চার জনে।
বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ২৭৪টি হামলায় ১২৬ জন সাংবাদিক আহত হন। গত বছরের ৯ আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬৫টি ঘটনায় ৯৫ জন আহত হন। এর বাইরে চলতি বছরের মার্চে রাজধানীতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী সাংবাদিক।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস জানায়, জানুয়ারি-জুনে ২০ জন সাংবাদিক লাঞ্ছিত, ৩৪ জন হুমকির মুখে এবং ১০ জন গ্রেপ্তার হন। একই সময়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনে অন্তত ১৬টি মামলায় ১২ জন গ্রেপ্তার ও ২৩ জন অভিযুক্ত হন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসেই ১৭টি হামলায় ২৭ জন নির্যাতিত হন, ১৫ জন আহত এবং ৫ জন হুমকি ও লাঞ্ছনার শিকার হন।
মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের তথ্য বলছে, গত বছরের ৯ আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১৬৫ জন সাংবাদিক হামলা ও নাজেহালের শিকার হয়েছেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনে সাংবাদিকদের ওপর ১৯৬টি নির্যাতন, নিপীড়ন, মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও স্বজনদের তথ্যমতে, গত এক বছরে নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দীপ্ত টিভির তানজিল জাহান তামিম, তারাকান্দা প্রেস ক্লাবের স্বপন কুমার ভদ্র ও সাংবাদিক রাহনুমা সারাহ। এছাড়া রাজনৈতিক নেতা, পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষার্থী, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের হুমকি, অপহরণ, বোমা হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।
সম্প্রতি ঘুষবিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় রূপগঞ্জের সাংবাদিক লিখন রাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে নারায়ণগঞ্জ পিবিআই। এই ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য, এটি তথ্য যাচাইয়ের অংশ।
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) জানিয়েছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন