খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড পুনর্গঠন করে ১৫ সদস্যের একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বোর্ডের গঠন, নেতৃত্ব ও সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়। নতুন এই বোর্ডের লক্ষ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও পেশাগত মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করা, পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রেণিবিন্যাস প্রক্রিয়াকে আধুনিক করা।
প্রাথমিক ঘোষণার পর কমিটির দুই সদস্য—চলচ্চিত্র পরিচালক খিজির হায়াত খান এবং চলচ্চিত্র সম্পাদক ইকবাল এহসানুল কবির—ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে গীতিকবি, সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ এবং চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক রফিকুল আনোয়ার রাসেলকে। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, আর সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান। এই কাঠামোতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও শিল্পক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা স্পষ্ট।
নবগঠিত বোর্ডে প্রিন্স মাহমুদ ও রফিকুল আনোয়ার রাসেলের পাশাপাশি কাজী নওশাবা আহমেদ, তাসমিয়া আফরিনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং চলচ্চিত্র-সংগঠনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেমন প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হচ্ছে, তেমনি চলচ্চিত্র নির্মাণ, সম্পাদনা ও সংগীতের বাস্তব অভিজ্ঞতাও প্রতিফলিত হচ্ছে। বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন, নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই চলচ্চিত্র দেখার কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় কোনো দীর্ঘসূত্রতা না রেখে নিয়মিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে এবং ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করা হয়। নতুন কাঠামোয় ‘সেন্সর’ শব্দটির পরিবর্তে ‘সার্টিফিকেশন’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে নিষেধাজ্ঞামূলক দৃষ্টিভঙ্গির বদলে শ্রেণিবিন্যাস, বয়সভিত্তিক অনুমোদন ও বিষয়বস্তুর প্রেক্ষাপটভিত্তিক মূল্যায়ন প্রাধান্য পায়। এতে চলচ্চিত্র নির্মাতারা যেমন স্পষ্ট নির্দেশনা পাবেন, তেমনি দর্শকরাও উপযোগী শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বোর্ডের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে নিয়মিত বৈঠক, নীতিমালা পর্যালোচনা, আপিল ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ প্রক্রিয়া জোরদার করার কথা ভাবা হচ্ছে। চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ, সৃজনশীলতার স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ভারসাম্য রক্ষা—এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নতুন বোর্ড কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড: সংক্ষিপ্ত চিত্র
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মোট সদস্য | ১৫ জন |
| চেয়ারম্যান | তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব |
| সদস্যসচিব | চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান |
| নতুন যুক্ত সদস্য | প্রিন্স মাহমুদ, রফিকুল আনোয়ার রাসেল |
| সরে দাঁড়ানো সদস্য | খিজির হায়াত খান, ইকবাল এহসানুল কবির |
| কার্যক্রম শুরু | নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার দিন থেকেই |
| বোর্ড গঠনের সময় | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ |
এই পুনর্গঠনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় পেশাগত ভারসাম্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস কাঠামোর দিকে এগোনোর একটি স্পষ্ট প্রয়াস দেখা যাচ্ছে।