খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে মাঘ ১৪৩২ | ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌস আরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার সকাল সাতটায় ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয় প্রশাসন এ সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
ফেরদৌস আরার পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুরে। তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শেখদী এলাকায় বসবাস করতেন। শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খানেবাড়ি এলাকায়। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ৩৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি বাঞ্ছারামপুর ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
ইউএনও ফেরদৌস আরার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | ফেরদৌস আরা |
| পৈতৃক বাড়ি | চাঁদপুর |
| জন্মস্থান | ঢাকা |
| বসবাস | যাত্রাবাড়ী, ঢাকা |
| শ্বশুরবাড়ি | দাউদকান্দি, কুমিল্লা |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | বিসিএস (প্রশাসন), ৩৬তম ব্যাচ |
| ইউএনও হিসেবে যোগদানের তারিখ | ৯ জানুয়ারি ২০২৫ |
| পূর্ববর্তী পদ | জেলা প্রশাসক কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| পরিবার | স্বামী, ৭ বছরের কন্যাসন্তান |
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া জানান, সোমবার ফেরদৌস আরা অসুস্থ বোধ করলে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য যান। তিনি মাইগ্রেনের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে অবস্থানকালে হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। পরিবার জানিয়েছে, তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দিতে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের ফেসবুক পেজ থেকে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় শোকবার্তা প্রকাশিত হয়। শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁদের কথায়, “ফেরদৌস আরা ছিলেন দায়িত্বপরায়ণ, দক্ষ ও সদালাপী কর্মকর্তা। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন মেধাবী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে হারালো।”
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে প্রথম আলোকে বলেন, “মাথাব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে কার্ডিয়াক অ্যাটাক হয়। তাঁর লাশ স্বামীর বাড়ি কুমিল্লায় নেওয়া হবে।”
ফেরদৌস আরার মৃত্যু স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। সহকর্মীরা স্মরণ করছেন একজন উদার, ন্যায়পরায়ণ ও মানবিক কর্মকর্তাকে, যিনি দায়িত্বের সঙ্গে সততা ও দক্ষতার চিত্র স্থাপন করেছিলেন।