পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত এলাকায় পরীক্ষা চৌকিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। আটক ব্যক্তির নাম পলাশ চন্দ্র মাঝি। তার বাড়ি ভারতের হুগলি জেলার খানাকুল এলাকায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। সোমবার দুপুরে নিজ দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে তিনি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের মাধ্যমে প্রস্থান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছিলেন। প্রাথমিকভাবে তার প্রবেশ ও প্রস্থান সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তিনি যখন সীমান্ত অতিক্রমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, তখন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালান।
তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে মোট চব্বিশ হাজার ছয়শ মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়। বিপুল পরিমাণ এই বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ ঘোষণা বা যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া বহনের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনাস্থল বাংলাবান্ধা সীমান্তের জিরো পয়েন্ট এলাকায় স্থাপিত পরীক্ষা চৌকি। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে নিয়মিত তল্লাশির সময়ই এই অভিযান পরিচালিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাবান্ধা প্রবেশ ও প্রস্থান দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেফায়েতুল ওয়ারেস। তিনি জানান, আটক ব্যক্তি এক মাস আগে বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং আজ নিজ দেশে ফেরার সময় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। এ সময়ই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয় এবং তার দেহ তল্লাশি করে মুদ্রাগুলো উদ্ধার করা হয়।
বর্তমানে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং শুল্ক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। উদ্ধার করা বৈদেশিক মুদ্রা এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটির সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| আটক ব্যক্তির নাম |
পলাশ চন্দ্র মাঝি |
| জাতীয়তা |
ভারতীয় |
| ঠিকানা |
হুগলি জেলা, খানাকুল এলাকা |
| উদ্ধারকৃত মুদ্রা |
চব্বিশ হাজার ছয়শ মার্কিন ডলার |
| আটক স্থান |
বাংলাবান্ধা সীমান্ত পরীক্ষা চৌকি |
| সময় |
সোমবার দুপুর |
| কারণ |
বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা বহন |
| সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ |
সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও শুল্ক কর্তৃপক্ষ |
এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় অর্থ পাচার ও অনিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা পরিবহনের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রমের মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে কাজ করছে বলে জানা গেছে।