খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
চীনে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে উত্তরাঞ্চলীয় শহর তিয়ানজিনে অবতরণ করেন তিনি। খবর রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন পুতিন। এ সম্মেলনে প্রায় ২০ জন বিশ্বনেতা অংশ নিচ্ছেন। রবিবার ও সোমবার বন্দর নগরী তিয়ানজিনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া বুধবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী বেইজিংয়ে এক বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়েছে।
এসসিও সম্মেলনে চীন, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও বেলারুশের পাশাপাশি আরও ১৬টি দেশ পর্যবেক্ষক বা ‘সংলাপ অংশীদার’ হিসেবে যুক্ত থাকবে।
প্রায়ই এসসিওকে ন্যাটোর বিকল্প জোট হিসেবে আখ্যায়িত করে চীন ও রাশিয়া। শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, ‘এই শীর্ষ সম্মেলন সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ এবং হুমকি মোকাবিলায় এসসিওর ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে। এই সবকিছুই একটি ন্যায্য বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা গঠনে সাহায্য করবে।’
তাইওয়ানের ওপর চীনের দাবি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে দেশ দুটির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে বেইজিং ও মস্কো নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য এসসিও’র মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে চাইছে।
সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ডিলান লোহ বলেন, ‘চীন দীর্ঘদিন ধরেই এসসিওকে একটি পশ্চিমা-নেতৃত্বের বাইরে শক্তিশালী ব্লক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে, যা একটি নতুন ধরণের আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে উৎসাহিত করে। তাদের দাবি, এটা আরও বেশি গণতান্ত্রিক হবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সংক্ষেপে এটি চীনের প্রভাবিত বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা প্রদান করে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমা-প্রভাবিত ব্যবস্থা থেকে আলাদা।’
২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জোটের এবারের শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ ২০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতা যোগ দেবেন।
এ সম্মেলনের আগেই শনিবার (৩০ আগস্ট) চীনে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে তাকে দেওয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা। এমন এক সময়ে মোদি চীন সফর করছেন, যখন তার দেশের রফতানি পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরে মোদি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। গত বছর রাশিয়ার কাজানে সর্বশেষ বৈঠক করেছিলেন দুই নেতা।
সূত্র: রয়টার্স
খবরওয়ালা/শরিফ