খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা অভিযানের সময় আটক বিএনপি নেতা মো. শামসুজ্জামানের মৃত্যু সংক্রান্ত ঘটনার পর সেখানকার ক্যাম্প কমান্ডারসহ অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন করবে।
মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্যের সঙ্গে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল রাত ১১টার দিকে “সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে যৌথ বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।” অভিযানের সময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন হাফিজা ফার্মেসি থেকে অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে ৫০ বছর বয়সী মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলু আটক হন।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তির তল্লাশিতে ১টি ৯ মিমি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন এবং ৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযান শেষে ডাবলু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইতিমধ্যে ক্যাম্প কমান্ডার এবং অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনাসদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট: শামসুজ্জামান জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁকে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসি থেকে আটক করা হয়েছিল। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গভীর রাতেই রাস্তায় নেমে আসে। তারা হাসপাতালের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং শামসুজ্জামানের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | মো. শামসুজ্জামান ওরফে ডাবলু |
| বয়স | ৫০ বছর |
| পদবি | জীবননগর পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক |
| অভিযান স্থান | জীবননগর উপজেলা, চুয়াডাঙ্গা |
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | ১টি ৯ মিমি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৪টি গুলি |
| সময়সীমা | অভিযান: রাত ১১টা; মৃত্যু: রাত ১২টা ২৫ মিনিট |
| পদক্ষেপ | ক্যাম্প কমান্ডারসহ সব সেনাসদস্য প্রত্যাহার; তদন্ত কমিটি গঠন |
| প্রশাসনিক ব্যবস্থা | দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে |
| জনবিক্ষোভ | হাসপাতালের সামনের সড়কে আগুন, বিভিন্ন স্লোগান ও প্রতিবাদ |
এই ঘটনা চুয়াডাঙ্গার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।