খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লা লিগায় টানা পয়েন্ট খোয়ানো, সেল্তা ভিগোর কাছে অপ্রত্যাশিত হার—সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ওপর চাপ ছিল প্রবল। তার মধ্যেই চ্যাম্পিয়নস লিগে আরও একটি ধাক্কা এসে পড়ল বার্নাব্যুতে। লিগ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিকদের ২–১ গোলে হারিয়ে মূল্যবান তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ল পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি।
আগেই জানা গিয়েছিল—দানি কারভাহাল, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড ও এদার মিলিতাওকে পাওয়া যাবে না। এর সঙ্গে যোগ হলো আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পের অনুপস্থিতি। আগের ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়া এমবাপ্পে পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় তাঁকে প্রথম একাদশে ব্যবহার করেননি জাবি আলোনসো।
এত অনুপস্থিতির মাঝেও মাঠে নেমে শুরুটা ভালোই করে রিয়াল। সিটি বল দখলে আধিপত্য দেখালেও প্রতি-আক্রমণে ভিনিসিয়ুস, বেলিংহাম ও রদ্রিগো একের পর এক সুযোগ তৈরি করছিলেন।
২৮ মিনিটে সেই আক্রমণের ফল মেলে। বেলিংহামের দেওয়া থ্রু–পাস ধরে ডান দিক দিয়ে দ্রুত ঢুকে কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান রদ্রিগো। চলতি মৌসুমে এটি তাঁর প্রথম গোল; মার্চের পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩২ ম্যাচে গোলশূন্য থাকার বন্ধ্যাত্ব কাটালেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
তবে সেই আনন্দ মাত্র সাত মিনিট স্থায়ী হয়। ৩৫ মিনিটে কর্নার থেকে নেওয়া গাভার্দিওলের হেড সরাসরি কোর্তোয়ার হাতে গেলেও তিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হন। ও’রিলি রিবাউন্ড বল থেকে সহজেই গোল করেন।
আরও বড় ধাক্কা আসে ৪৩তম মিনিটে। রুডিগারের ভুলে বক্সের ভেতর হলান্ড ফাউলড হলে পেনাল্টি পায় সিটি। স্নায়ুচাপহীনভাবে বল গোলের বিপরীত কোণে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন নরওয়েজিয়ান সুপারস্টার।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়াতে পারত সিটি। হলান্ডের ভয়ংকর শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকান কোর্তোয়া। ফিরতি বলে চেরকি শট নিলেও তা রুখে দেন রিয়াল গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল আক্রমণ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সিটির রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ড কন্ট্রোল তাদের খুব বেশি সুযোগ দেয়নি। এমবাপ্পেকে নামিয়েও পরিস্থিতি পাল্টাতে পারেননি আলোনসো। আক্রমণাত্মক ফাইনাল থার্ডে বারবারই থেমে গেছে রিয়ালের অগ্রযাত্রা।
| সূচক | রিয়াল মাদ্রিদ | ম্যানচেস্টার সিটি |
|---|---|---|
| বল দখল | ৪১% | ৫৯% |
| টার্গেটে শট | ৩ | ৬ |
| মোট শট | ৯ | ১৪ |
| কর্নার | ৪ | ৭ |
| গোল | ১ | ২ |
লা লিগায় টানা ব্যর্থতার পর চ্যাম্পিয়নস লিগেও এমন পরাজয় রিয়ালের ডাগআউটে থাকা আলোনসোর ওপর চাপ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইনজুরি সমস্যা, দলে সমন্বয়ের ঘাটতি, তারকা খেলোয়াড়দের অফ–ফর্ম—সব মিলিয়ে রিয়ালের মৌসুমের শুরুটা এখন অস্বস্তিকর দিকে মোড় নিচ্ছে।
ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ জয়—গ্রুপের শীর্ষে ওঠার পাশাপাশি মনোবলও বাড়ল। আর রিয়ালের সামনে এখন পথ কঠিন—পরের ম্যাচেই তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা।