খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট ২০২৫
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার চীন সফরে যাচ্ছেন। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর এবারই প্রথম কিম কোনো বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছেন। তিনি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তির প্যারেডে যোগ দেবেন।
আগামী বুধবার অনুষ্ঠিত হবে এই প্যারেড, যা শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উদযাপন নয়, বরং জাপানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীনা প্রতিরোধকেও স্মরণ করবে। প্যারেডে কিম জং উনের সঙ্গে থাকবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ২৬টি দেশের নেতা।
সামরিক কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করবেন ইরান, বেলারুশ, সার্বিয়া, কিউবা, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান এবং মালয়েশিয়ার নেতারাও। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কোনো নেতা এতে অংশ নেবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কুচকাওয়াজে চীনের কিছু নতুন অস্ত্র প্রদর্শিত হতে পারে এবং চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং একটি ভাষণ দেবেন।
চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হং লেই বলেন, ‘চীনের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতাকে স্বাগত জানাই।’
সবকিছু ঠিক থাকলে, ২০১৯ সালের পর এটি কিমের প্রথম চীন সফর। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি সি চিনপিং, ভ্লাদিমির পুতিন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে সব বৈঠকই দ্বিপক্ষীয় ছিল, কোনো বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেননি। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে কিম চারবার সি চিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং প্রধান সাহায্যকারী দেশ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সেনা ও গোলাবারুদ সরবরাহের পরিবর্তে অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য নিচ্ছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, উত্তর কোরিয়ার জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাশিয়া থেকে সীমিত সুবিধা পাওয়া সম্ভব এবং যুদ্ধ শেষ হলে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার মাত্রা স্থায়ী নাও হতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়ার মোট বিদেশি বাণিজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই চীনের সঙ্গে হয়েছে, আর রাশিয়ার সঙ্গে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ।
কিমের চীন সফরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার যোগসূত্রও খুঁজছেন অনেকে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প কিমের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে পিয়ংইয়ং বারবার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ছাড় দেয়, তাহলে উত্তর কোরিয়া আলোচনায় আসতে পারে।
সিউলের ইওহা উইমেন্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইসলি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার শাসনের জন্য চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন অপরিহার্য হলেও, মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের অবৈধ সহযোগিতা বেইজিংয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শক্তিশালী অবস্থান থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হতে কিম এখন সি-এর সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছেন, এবং বেইজিংয়ের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া সেই চেষ্টারই একটি দৃশ্যমান উপায়।’
খবরওয়ালা/শরিফ