জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান বাধাগ্রস্ত, ট্রাক-কালভার্ট ভাঙা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বড় ধরনের অভিযানের পথে সন্ত্রাসীরা গত রাতেই নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। রাস্তায় রাখা হয়েছে বড় ট্রাক, ভেঙে ফেলা হয়েছে কালভার্ট এবং নালার স্ল্যাবও তুলে ফেলা হয়েছে। এসব বাধার কারণে অভিযানের শুরুতে যৌথ বাহিনী কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, অভিযানের খবর আগেই জঙ্গলে থাকা সন্ত্রাসীদের কিছু অংশের কাছে পৌঁছে গেছে। তাই তারা অভিযান শুরু হওয়ার আগেই বাধা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে আলীনগর এলাকায় প্রবেশের মূল রাস্তায়।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও নেতৃত্ব

জঙ্গল সলিমপুরে মূলত দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয়।

গোষ্ঠীর নাম নেতৃত্ব অতীত ঘটনা ও দখল এলাকা
গোষ্ঠী-১ মোহাম্মদ ইয়াসিন গত জানুয়ারিতে অভিযানে নিহত র‍্যাব কর্মকর্তার মামলা, আলীনগর এলাকা একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ
গোষ্ঠী-২ রোকন উদ্দিন অন্যান্য অংশে নিয়ন্ত্রণ

মোহাম্মদ ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী মূলত আলীনগর এলাকায় শক্ত অবস্থান গড়ে রেখেছে। অভিযানের সময় যেসব প্রতিবন্ধকতা দেখা গেছে—প্রধান রাস্তা অবরুদ্ধ ট্রাক, কালভার্ট ভাঙা—সবই এই এলাকা কেন্দ্রিক।

অভিযান ও যৌথ বাহিনীর প্রস্তুতি

আজ সকাল ছয়টা থেকে প্রায় ৪,০০০ সদস্য অংশগ্রহণ করছেন অভিযানে। অভিযান শুরুর আগে জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে নজরদারি রাখা হয়েছে যাতে সন্ত্রাসীরা পালাতে না পারে। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, রাতের আঁধারে কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছিল। পরে যৌথ বাহিনী ইট–বালি দিয়ে সেই অংশ ভরাট করে নিরাপদে আলীনগরে প্রবেশ করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি বড় অভিযান। জঙ্গল সলিমপুরে যারা নিয়ন্ত্রণ রাখে, তাদের অনেক সোর্স রয়েছে। কোনোভাবে তারা খবর পেতে পারে।’

অতীত সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম

গত বছরের জানুয়ারিতে র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ জনকেও আসামি করা হয়েছে। অভিযানের আগে এলাকার পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত ছিল। জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

জমি দখল ও প্লট-বাণিজ্যকে টিকিয়ে রাখার জন্য সন্ত্রাসীরা এলাকায় অস্ত্রধারী পাহারায় থাকে। এছাড়া গত বছরের অক্টোবরে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন, এবং পরদিন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এলাকা ও ভৌগোলিক অবস্থান

জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পশ্চিমে, ৩,১০০ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি, পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানার সীমানা। পাহাড় কেটে গড়ে উঠা অবৈধ বসতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম এখনও চলমান।

এ পর্যন্ত অভিযানের মাধ্যমে কতজন গ্রেপ্তার বা অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা এখনও জানানো হয়নি। যৌথ বাহিনী একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে অভিযান অব্যাহত রাখবে।

এই অভিযানের ফলে জঙ্গল সলিমপুরের সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।