খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট ২০২৫
পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায় বলিউড সিনেমা ‘জলি এলএলবি’-এর মতো নাটকীয় এক ঘটনার সাক্ষী হলো স্থানীয় প্রশাসন। সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে লুকিয়ে থাকা বাংলাদেশের এক পলাতক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্যের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।
গত শনিবার (২ আগস্ট) রাতে নদিয়ার তেহট্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হাসেম মল্লিক (৬০)। তিনি বাংলাদেশে একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নদিয়া জেলায় বাস করছিলেন ছদ্মপরিচয়ে। তিনি নিজেকে ‘হাসেম আলী মল্লিক’ নাম দিয়ে পরিচয় দিতেন এবং সন্ন্যাসীর বেশ ধারণ করেছিলেন।
এসটিএফের সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আবদুন নূর চৌধুরীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসটিএফ ও স্থানীয় পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে হাসেম মল্লিককে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে হাসেম মল্লিক স্বীকার করেছেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং সেখানে অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। সেইসব মামলার আইনগত ঝুঁকি এড়াতে তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে আসেন। ভারতে প্রবেশের পর নিজের পরিচয় গোপন রাখতে জাল ভারতীয় নথিপত্র তৈরি করেন।
আজ সোমবার তাঁকে তেহট্ট মহকুমা আদালতে তোলা হলে আদালত তিন দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের আরও বাংলাদেশি পলাতক অপরাধী পশ্চিমবঙ্গে লুকিয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিজেপির বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘বাংলা এখন সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। তারা বাংলাকে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ কি এই বিষয়ে কিছুই জানত না? তাদের গোয়েন্দা বিভাগ কী করছিল? এমন ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন বাংলায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চান না। কারণ তিনি তাঁর ভোটব্যাংককে সুরক্ষা দিতে চান।’
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে ঘটনায় প্রশাসনিক তৎপরতা ও রাজনৈতিক উত্তাপ—দুয়োটিই একসঙ্গে নজরে পড়েছে।
খবরওয়ালা/এসআই