খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় দুই তারকা—বিটিএস সদস্য জাংকুক ও আসপার সদস্য উইন্টার—সম্প্রতি একটি সমন্বিত কারণকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন। তাঁদের দু’জনের হাতের একই স্থানে করা একই নকশার ট্যাটুর ছবি ৫ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটজুড়ে জন্ম নিয়েছে তীব্র কৌতূহল ও নানা ধরনের জল্পনা। ভক্ত থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেন—সবার মনে একই প্রশ্ন: এটা কি কেবল কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনও বিশেষ সম্পর্কের ইঙ্গিত?
প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দু’জনের ট্যাটুতেই তিনটি ছোট কুকুরছানার মুখের নকশা রয়েছে। অপেক্ষাকৃত সরল অথচ ব্যক্তিগত অর্থবোধক এই ডিজাইন দেখে অনেকেই ধারণা করছেন—এটি কোনও ‘কাপল ট্যাটু’ বা পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতীক হতে পারে। কে-পপ ইন্ডাস্ট্রিতে সাধারণত তারকারা ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনতে চান না। ফলে ভক্তদের ক্ষুদ্রতম মিলও অনেক সময় বড় আলোচনার জন্ম দেয়। এই ট্যাটুকে ঘিরে ঠিক সেরকমই কিছু ঘটছে বর্তমানে।
ট্যাটুর মিল ছাড়াও নেটিজেনরা আরও কয়েকটি পয়েন্ট সামনে এনে বলছেন—জাংকুক ও উইন্টারের সম্পর্ক নেহাত গুঞ্জন নয়। তাদের মতে, দু’জনের ইনস্টাগ্রাম ইউজারনেমেও ছিল একটি মিল। উইন্টার ব্যবহার করেন ‘আই অ্যাম উইন্টার’, আর জাংকুক কিছুদিন আগেও ব্যবহার করতেন ‘আই অ্যাম জাংকুকু’। যদিও জাংকুক এখন সেই নাম পরিবর্তন করেছেন, তবুও নেটিজেনরা মনে করছেন—এই মিলও গুঞ্জনের আগুনে ঘি ঢেলেছে।
এর পাশাপাশি দু’জনকে বহুবার মঞ্চে একই ডিজাইনের ইন-ইয়ার মনিটর ব্যবহার করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, একই ব্র্যান্ডের ডিভাইস অথবা একই কাস্টম ডিজাইন ব্যবহার করা অনেক সময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ইঙ্গিত হতে পারে, কারণ তারকারা সাধারণত ব্যক্তিগত পছন্দ বা বন্ধুত্বের বৃত্তে থাকাদের সাথে মিল রেখে এ ধরনের আনুষঙ্গিক ব্যবহার করেন।
এই সব মিলিয়ে অনলাইনে একটি বড় অংশ বিশ্বাস করছে—জাংকুক ও উইন্টারের মধ্যে কোনও এক ধরনের বিশেষ বন্ধন গড়ে উঠেছে। যদিও এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করার মতো কোনও নির্ভরযোগ্য বা আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তবুও কে-পপ বিশ্বে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের তীব্র আগ্রহের কারণে গুঞ্জন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, এই আলোচনার মাঝেও জাংকুকের সংস্থা বিগহিট মিউজিক কিংবা উইন্টারের সংস্থা এসএম এন্টারটেইনমেন্ট—দু’জনের কেউই এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য দেয়নি। সাধারণত কোম্পানিগুলো যখন কোনও রটনার তেমন ভিত্তি থাকে না, তখন দ্রুত বিবৃতি দেয়। কিন্তু উভয় পক্ষের নীরবতা—বরং নেটিজেনদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—এই ট্যাটুর মিল কি কাকতালীয়, নাকি ভক্তদের তত্ত্বই সঠিক? যে দিকেই সত্যি থাকুক, জাংকুক ও উইন্টারকে ঘিরে আলোচনার জোয়ার যে শীঘ্রই থামছে না, তা নিশ্চিত।