খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে মাঘ ১৪৩২ | ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি অভিযোগ করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভের জন্য জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী এক ভয়াবহ ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচনী কারচুপির নীল নকশা তৈরি করেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, জামায়াতের এই পরিকল্পনা কেবল একটি আসনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা এখন সারা দেশেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি বলেন, “রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে কিছু দল পুরোনো এবং অনৈতিক কৌশলগুলো আবারও অবলম্বন করছে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়ের চেয়েও তারা এখন ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর বেশি আস্থা রাখছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, তারা ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সুপরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বাঞ্ছারামপুর এলাকাতেও এই অশুভ পরিকল্পনার নানা লক্ষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সাকি তাঁর বক্তব্যে কারচুপির কয়েকটি বিশেষ কৌশলের কথা উল্লেখ করেন, যা তাঁর ভাষায় “ভয়াবহ উদ্বেগজনক”। এর মধ্যে রয়েছে—প্রবাসী বা অনুপস্থিত ভোটারদের হয়ে প্রক্সি ভোট প্রদান, আঙুলের অমোচনীয় কালি মুছে ফেলার জন্য বিশেষ রাসায়নিক বা মেডিসিনের ব্যবহার এবং একই ব্যক্তিকে দিয়ে একাধিকবার ভোট দেওয়ানোর অপচেষ্টা।
| বিষয় | জোনায়েদ সাকি কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগ |
| প্রধান অভিযুক্ত | জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট |
| ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ধরণ | অনুপস্থিত ভোটারদের ভোট প্রদান ও একই ব্যক্তির একাধিক ভোট |
| কারিগরি জালিয়াতি | আঙুলের কালি মোছার জন্য বিশেষ ‘মেডিসিন’ বা রাসায়নিক ব্যবহার |
| অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি | ভোটকেন্দ্রে কৃত্রিম ‘মব’ বা ভিড় তৈরি করে সাধারণ ভোটারদের বাধা প্রদান |
| আর্থিক প্রভাব | এলাকায় কালো টাকার ব্যাপক ছড়াছড়ি ও ভোটারদের প্রলোভন |
| প্রশাসনের ভূমিকা | প্রশাসনের একপেশে প্রভাব ও পক্ষপাতমূলক আচরণের আশঙ্কা |
জোনায়েদ সাকি বলেন, “একটি পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা তৈরির মাধ্যমে ভোটারদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করা হচ্ছে। কেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কৃত্রিম জটলা বা ‘মব’ তৈরি করা হবে এবং পরবর্তীতে সেই বিশৃঙ্খলার খবর প্রচার করে সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে নিরুৎসাহিত করা হবে। এটি একটি অত্যন্ত নোংরা কৌশল।” তিনি জানান, কালো টাকার ছড়াছড়ি এবং কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যদি প্রশাসন কোনো বিশেষ দলের পক্ষে প্রভাবিত হয়ে কাজ করে, তবে অনেক অনিয়মই তাদের চোখে পড়বে না। আমরা চাই প্রশাসন নিরপেক্ষ থেকে প্রতিটি মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করুক।” প্রশাসন তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও তিনি তাঁর কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি সর্বোচ্চ সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকির পাশে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও জোটের শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদি হাসান পলাশ এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ খালেক উল্লেখযোগ্য। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সাকির বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জোনায়েদ সাকির এই কঠোর অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভোটারদের মধ্যে একদিকে যেমন ভোট দেওয়ার আগ্রহ রয়েছে, অন্যদিকে জালিয়াতির এই অভিযোগগুলো সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের সংশয় ও আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।