শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তারের চার দিন পর মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
৭৬ বছর বয়সী বিক্রমাসিংহের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৩ সালে হাভানায় জি৭৭ সম্মেলন ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়ে ফেরার পথে যুক্তরাজ্যে অবস্থানের জন্য তিনি সরকারি তহবিল থেকে ৫৫ হাজার ডলার ব্যয় করেছিলেন।
কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ শুনানির পর কলম্বো ফোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট নিলুপুলি লঙ্কাপুরা তাকে ৫০ লাখ শ্রীলঙ্কান রুপি বন্ডে মুক্তির আদেশ দেন। শুনানিকক্ষে এলিট বাহিনী মোতায়েন ছিল। দিনের শুরুতে আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া কয়েকশ সমর্থককে নিয়ন্ত্রণে রাখতে দাঙ্গা পুলিশও অবস্থান নেয়।
শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর ডিহাইড্রেশনের কারণে বিক্রমাসিংহেকে প্রথমে কারা হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। হাসপাতালের শয্যা থেকেই ভিডিও লিংকের মাধ্যমে তিনি মঙ্গলবার জামিন শুনানিতে অংশ নেন। আদালত আগামী ২৯ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।
বিক্রমাসিংহের উত্তরসূরি প্রেসিডেন্ট আনুরা কুমারা দিসানায়েকের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তারি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এখনো ২০২২ সালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা।
রবিবার দেশটির তিন সাবেক প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বিক্রমাসিংহের প্রতি সংহতি জানিয়ে তার আটককে *‘গণতন্ত্রের ওপর পরিকল্পিত আঘাত’* বলে মন্তব্য করেন। বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) দাবি করেছে, রাজনৈতিক পুনরাগমনের ভয়েই তাকে নিপীড়ন করা হচ্ছে।
যদিও গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দিসানায়েকের কাছে তিনি পরাজিত হন, বিক্রমাসিংহে এখনো সক্রিয় রাজনীতিতে আছেন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যে তার স্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় ব্যক্তিগতভাবে বহন করা হয়েছে, সরকারি অর্থ ব্যবহার করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গোটাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের পর ২০২২ সালের জুলাইয়ে বিক্রমাসিংহে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
খবরওয়ালা/শরিফ



