খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের তোলা গুরুতর অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) রহস্যজনক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উচ্চ আদালত। দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই উদাসীনতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এই আদেশের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে নারী অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় উঠে এসেছে।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। শুনানিতে তারা যুক্তি দেখান যে, একজন জাতীয় পর্যায়ের ক্রিকেটারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিসিবির মতো একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের নীরবতা কেবল অনভিপ্রেত নয়, বরং আইনত অগ্রহণযোগ্য।
হাইকোর্ট বিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, জাহানারা আলমের করা অভিযোগের বিষয়ে তারা এ পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে অথবা ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেবে, তা বিস্তারিতভাবে আদালতকে অবহিত করতে হবে। আদালত তার পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন,
“স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মৌলিক দায়িত্ব। সেটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোক, কর্মক্ষেত্র হোক, কারখানা, হাসপাতাল কিংবা ক্রীড়াঙ্গন—যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগগুলোকে সব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।”
গত বছরের নভেম্বরে জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার জাহানারা আলম দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক ও পেশাগত চাপের পাশাপাশি তাকে অসম্মানজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই অভিযোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করলেও বিসিবি অভ্যন্তরীণ তদন্ত বা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণে কালক্ষেপণ করে আসছিল।
জাহানারা আলমের রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দিনের পর দিন নিশ্চুপ থাকে, তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়। এতে শুধু একজন ভুক্তভোগীই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, বরং অন্যান্য সম্ভাব্য ভুক্তভোগীরাও ভয়ে বা অনাস্থার কারণে মুখ খুলতে সাহস পান না। এর ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের নারী ক্রিকেটের পরিবেশ কলুষিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
নিচে জাহানারা আলমের অভিযোগ এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবির ভূমিকার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| অভিযোগকারী | জাহানারা আলম (সাবেক অধিনায়ক, নারী ক্রিকেট দল)। |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | মনজুরুল ইসলাম (সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার)। |
| অভিযোগের ধরন | যৌন হয়রানি ও মানসিক হেনস্তা। |
| বিসিবির ভূমিকা | দীর্ঘকালীন নীরবতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা। |
| আদালতের নির্দেশনা | তদন্তের অগ্রগতি জানানো এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ। |
| মূল দাবি | অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্রীড়াঙ্গনে নারীর নিরাপত্তা। |
বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে নারী ক্রিকেটারদের অবদান অনস্বীকার্য। জাহানারা আলমের মতো একজন অভিজ্ঞ ও সফল ক্রিকেটারের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ উঠার পর বিসিবির মতো প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা জরুরি ছিল। আদালতের এই হস্তক্ষেপ দেশের ক্রীড়া প্রশাসনকে একটি কড়া বার্তা দিয়েছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠানই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এখন দেখার বিষয়, বিসিবি তাদের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ কাটিয়ে কত দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে অভিযোগটি তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।