খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে বৈশাখ ১৪৩২ | ১৪ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর দুই ছেলে সুলেমান খান(২৮) ও কাসিম খান (২৬)। সাম্প্রতিক বিরল এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন দু’ভাই।
সম্প্রতি মারিও নওফাল নামের এক নেট ইনফ্লুয়েন্সারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সুলাইমান ও কাসিম। সাক্ষাৎকারে কাসিম বলেন, ‘বাবার মুক্তির জন্য আমরা আইনি পথ অবলম্বনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাকে কারাগার থেকে বের করার জন্য সম্ভাব্য সব পথে চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। এভাবে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস যে তাকে কারাগারে থাকতে হবে— এমনটা আমরা কখনও ভাবতেও পারিনি। যত দিন যাচ্ছে, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।’
কাসিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ জরুরি—আর সেটা ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিত্বের মাধ্যমেই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই পাকিস্তানে গণতন্ত্র ফিরে আসুক।’
দুই ভাই তাঁদের বাবাকে ‘নায়ক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এত দিন তাঁরা প্রকাশ্যে কিছু বলেননি, কিন্তু এখন আর চুপ থাকা সম্ভব হচ্ছে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কর্মকর্তা রিচার্ড গ্রেনেলের সমর্থনের কথা জানিয়ে বড় ছেলে সুলেমান বলেন, ‘বাক্স্বাধীনতা ও প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে—আমরা এমন যে কোনো সরকারকে আহ্বান জানাই, বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা ট্রাম্পকে।’
তাঁরা অভিযোগ করেন, পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। অন্ধকার কক্ষে দীর্ঘদিন একা আটকে রেখেছে। চিকিৎসক বা বাইরের জগতের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই তাঁর। আদালত সাপ্তাহিক সাক্ষাতের অনুমতি দিলেও দুই থেকে তিন মাস পরপর তাঁদের বাবার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়।
তাঁদের মা জেমিমা গোল্ডস্মিথ গত অক্টোবরে অভিযোগ করেছিলেন, ইমরান খানকে আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাঁর সেলে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
কাসিম বলেন, ‘তিনি টানা ১০ দিন সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। আমরা চাই আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হোক—এটা শুধু আমাদের বাবার জন্য নয়, বরং পাকিস্তানে বন্দী সব রাজনৈতিক নেতার মানবাধিকার রক্ষার জন্য।’
তাঁদের মামা যুক্তরাজ্যের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী জ্যাক গোল্ডস্মিথ এক্স মাধ্যমে বলেছেন, ‘আমার ভাগনেরা কখনো প্রচারের পেছনে ছোটেনি। কিন্তু এখন তাঁরা তাঁদের বাবার জন্য, একজন নেতার জন্য মুখ খুলেছে—যিনি পাকিস্তানের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছেন।’
প্রসঙ্গত, কিংবদন্তী ক্রিকেটার থেকে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান খান সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে প্রথম ক্ষমতায় আসেন ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর। তবে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের শীর্ষ নির্বাহীর পদে কে আরোহন করবেন তা নিয়ে সেনবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে সংকটে পড়েন তিনি। পরে ২০২২ সালের পার্লামেন্টের বিরোধী সদস্যদের অনাস্থাভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন।
২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী আছেন ৭২ বছর বয়সী ক্রিকেটার-রাজনীতিবিদ ইমরান খান। একটি দুর্নীতি মামলায় তিনি তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০টি অভিযোগ রয়েছে। তবে তাঁর দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে করে আসছে।
এই প্রথম পিতার মুক্তির জন্য প্রকাশ্য তৎপরতা দেখালেন ইমরান খানের দুই ছেলে।
খবরওয়ালা/এসআর