খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ৩ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
এবারের বাজেট জনবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব হয়েছে উল্লেখ করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রবৃদ্ধির (জিডিপি) গল্প না শুনিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয় এমন বাজেট প্রস্তাব করেছি৷ মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি৷
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা গতকাল বাজেট উপস্থাপন করেছি। সংসদ নেই, জাতির সামনে করেছি। কারণ, জাতির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আমরা ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব নিয়েছি। সার্বিকভাবে মনে করি, বাজেট ব্যবসা ও জনবান্ধব।’
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি আমরা একটি জনবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট দিতে পেরেছি৷ অনেকে বলছে তোমরা আগের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছ৷ হুট করেই যে আমরা একটা বিপ্লবী বাজেট দিয়ে দেব, সেটা তো সম্ভব না৷ বাজেটে একেবারে যে ইনোভেশন নেই, তা কিন্তু নয়৷ গতকাল বাজেট দিয়েছি, এটা ওপেন থাকবে৷ কিছু সাজেশন আসবে৷ পরবর্তীতে ফাইনাল বাজেটটা আসবে৷
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতি আইসিইউতে ছিল, খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল। সবার সহযোগিতায় মোটামুটি স্ট্যাবিলিটি নিয়ে এসেছি।
সব সংস্কারই এই সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা যতটুকু পারব, সংস্কার করব। ফুটপ্রিন্ট রেখে যাব। যারা পরে আসবেন, তাঁরা করবেন।’
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের ব্যাংক, পুঁজিবাজার, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা খারাপ ছিল। আকাঙ্ক্ষা অনেক, কিন্তু সম্পদ সীমিত। এই সীমিত সম্পদের মধ্যে আমরা বাজেট করেছি। বাজেট যেন বাস্তবায়নযোগ্য, বাস্তবমুখী ও একটু প্রাগম্যাটিক হয়, সেই চেষ্টা করেছি।’
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এত দিন প্রবৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধি, প্রবৃদ্ধির ন্যারেটিভ শুনেছেন। প্রবৃদ্ধির সুফল কে পেয়েছে? আমরা প্রবৃদ্ধির গল্প না শুনিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয়, সেই চেষ্টা করেছি।’
বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বেশ ভালো জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, বাইরে প্রত্যেকটা দেশ, এজেন্সি বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক।’
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের প্রতি কোলাবোরেটিভ ও সিমপ্যাথেটিক হয়ে কাজ করবেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি আমরা।’
সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.), বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অনেক জঞ্জাল পেয়েছি। জঞ্জাল পরিষ্কার করার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।’
খবরওয়ালা/এন