খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
রাজধানীতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। তিনি নিজেও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) গণমাধ্যমকে হুমায়ুন কবির জানান, ‘বৈঠকটি ছিলো সৌজন্যমূলক। দেশ পরিস্থিতি, তারেক রহমানের ভাবনা, এবং তিনি যদি ক্ষমতায় আসেন তাহলে দেশ নিয়ে কী পরিকল্পনা করবেন—এসব বিষয় উঠে আসে আলোচনায়।’
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ব্যক্তিগতভাবে তারেক রহমানের সঙ্গে পরিচিত হতে এসেছিলেন। তারেক রহমান কীভাবে গত ১৫ বছর ধরে দল পরিচালনা করছেন, শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে কীভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন—এসব গল্প শুনেছেন তিনি।’
তারেক রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা বলেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব তাকিয়ে আছে আগামী নির্বাচনে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনার দিকে। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি লন্ডন থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে গেছেন এবং একটি পরিণতির দিকে পৌঁছে দিয়েছেন। সে কারণেই আন্তর্জাতিকভাবে তার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।’
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে চলতি বছরই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন হুমায়ুন কবির। তার ভাষ্য, ‘নির্বাচন তো ফেব্রুয়ারিতে হবে, সেটি ঘোষণা হয়েই গেছে। সেক্ষেত্রে নভেম্বর-ডিসেম্বরে তফসিল হবে। তাহলে এই বছরই তিনি দেশে ফিরবেন।’
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে (লন্ডন) যান তারেক রহমান। পরে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একাধিক মামলার আসামি হন তিনি। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তার সাজাও হয়েছে। ফলে তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে লন্ডনে রাজনৈতিক নির্বাসনে রয়েছেন।
তবে গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তার দেশে ফেরার পথে আর কোনো আইনি জটিলতা আছে বলে মনে হচ্ছে না। চলতি বছরের জুনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এরপর থেকেই আগামী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে হওয়ার সম্ভাবনার কথা সামনে আসে। গতকাল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে একই সময়সীমা পুনরায় উল্লেখ করেছেন ড. ইউনূস।
প্রসঙ্গত, সরকারের পতনের পর থেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলে আসছেন, তারেক রহমান যেকোনো সময় দেশে ফিরতে পারেন। যদিও এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
খবরওয়ালা/এন