খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৬ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র–জনতার ওপর গুলি, নজরদারি, জনবল স্থানান্তরসহ নানা কাজে পুলিশ ও র্যাবের হেলিকপ্টার ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৩৬ বার আকাশে উড়েছিল এই দুই বাহিনীর হেলিকপ্টার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বুধবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই তথ্য তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, সুনামগঞ্জ, সিলেট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধায় হেলিকপ্টারগুলোর উড্ডয়ন ও অবতরণের রেকর্ড পাওয়া গেছে। সেসব উড্ডয়নে শটগান, এসএমজি, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে।
প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে র্যাব ও পুলিশের হেলিকপ্টার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আকাশে ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, “বাস্তবে গুলি হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার রাউন্ড, কিন্তু হিসাব দেওয়া হয়েছে মাত্র একশ রাউন্ডের। হেলিকপ্টারে কত গোলাবারুদ তোলা হয়েছিল, কত ফায়ার করা হয়েছে, কত অবশিষ্ট আছে—সব তথ্যই আমরা পেয়েছি।”
তিনি আরও জানান, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উদ্ধারকাজ, গোপন নজরদারি, টহল, জনসমাবেশ ছত্রভঙ্গ ও তৎকালীন আইজিপিকে উদ্ধারের মতো অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহৃত হয়। এসব ফ্লাইটে থাকা অফিসারদের মোবাইল নম্বরও মোবাইল টাওয়ারে রেকর্ড হয়, যা থেকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কারা আকাশে ছিলেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ এই মামলার বিচার করছেন। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
যুক্তিতর্কের সময় ট্রাইব্যুনালে মিলিটারি–গ্রেড বুলেট প্রদর্শন করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, “এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য তৈরি গুলি। কিছু বুলেট আহতদের শরীর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।”
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আসামি তিনজন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন। মামুন ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে, উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যার দায়, চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা, আশুলিয়ায় ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ।
তাজুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য, পুলিশের স্বীকারোক্তি ও ভিডিও—এই তিনটি একত্র করলে ক্রিস্টাল ক্লিয়ারভাবে প্রমাণ হয়, কীভাবে এই হত্যাকাণ্ডগুলো সংঘটিত হয়েছে।”
এ মামলায় বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) আবু সাঈদ হত্যার অভিযোগ নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন চিফ প্রসিকিউটর।
এছাড়া, একই গণ–অভ্যুত্থান–সম্পর্কিত মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়িয়ে আগামী ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
এ মামলায় গ্রেপ্তার ১৬ আসামিকে গতকাল ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়, আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনুপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলামকে আগামী ৩০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খবরওয়ালা/আশ