খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে কার্তিক ১৪৩২ | ১০ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নিউইয়র্ক শহরের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হতে যাচ্ছেন জোহরান মামদানি। তবে তাঁর এই অর্জন কিছু রিপাবলিকান নেতার কাছে গিলে ফেলা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁরা এখন মামদানির মার্কিন নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন, এমনকি সেটি বাতিলেরও দাবি করছেন।
নির্বাচনের আগ থেকেই সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মামদানিকে আক্রমণ করে আসছেন। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিককে তিনি ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মামদানি মেয়র হলে নিউইয়র্কের কেন্দ্রীয় তহবিল বন্ধ করে দেবেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর রিপাবলিকানদের একাংশ মামদানির নাগরিকত্বের বৈধতা নিয়ে তদন্তের দাবি তোলে।
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য অ্যান্ডি ওগলেস ও রেন্ডি ফাইন দাবি করেছেন, মামদানি নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় তথ্য গোপন করেছিলেন বা মিথ্যা বলেছেন। ওগলেস বলেন, “যদি নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে তিনি অসত্য তথ্য দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করা উচিত এবং তিনি মেয়র পদে থাকতে পারবেন না।” তবে তাঁদের এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইট পলিটিফ্যাক্ট।
জোহরান মামদানি ১৯৯৮ সালে মাত্র সাত বছর বয়সে উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০১৮ সালে নাগরিকত্ব পান। মার্কিন আইন অনুযায়ী, নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা আদালতের হাতে এবং এটি কেবল তখনই সম্ভব, যদি প্রমাণিত হয় আবেদনকারী নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় প্রতারণা করেছেন।
অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবী জেরেমি ম্যাককিনলে বলেন, “মামদানি নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না—এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। তাই তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি আইনি ভিত্তিহীন।”
মামদানি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকা (DSA)-এর সদস্য। রিপাবলিকানদের দাবি, নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে তিনি এই সদস্যপদের কথা গোপন করেছিলেন এবং সংগঠনটি “কমিউনিস্ট” আদর্শে বিশ্বাসী। কিন্তু আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, DSA কোনো কমিউনিস্ট দল নয় এবং এর সদস্যপদ মার্কিন নাগরিকত্বের পথে বাধা নয়।
নিউইয়র্ক ইয়ং রিপাবলিকান ক্লাব মামদানির বিরুদ্ধে আরেকটি যুক্তি দাঁড় করিয়েছে—তাঁর কিছু বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘শত্রুদের প্রতি সহানুভূতি’ দেখানোর সমান, যা সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর পরিপন্থী। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংশোধনী যুদ্ধ বা বিদ্রোহে যুক্ত থাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, রাজনৈতিক মত প্রকাশে নয়।
কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কাসান্দ্রা বার্ক রবার্টসন বলেন, “মামদানির নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো মামলা আদালতে টিকবে না। বরং এমন উদ্যোগ নাগরিক স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।”
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ঘটনা বিরল হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের সময় কিছু উদাহরণ রয়েছে। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, মামদানির নাগরিকত্ব বাতিলের সম্ভাবনা কার্যত শূন্য। তবে এমন বিতর্ক তাঁর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথকে কিছুটা হলেও রাজনৈতিকভাবে জটিল করে তুলছে।