খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১২ মে ২০২৫
পুরোনো একটি সাইকেল কেনার জন্য মাত্র তিন হাজার টাকার দরকার ছিল। সেই টাকা জোগাড় করতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুর শেওড়াপাড়ায় খালার বাসায় আসে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। কিন্তু টাকা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে সে। এরপরই ঘটে ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড—যেখানে প্রাণ হারান তার দুই খালা।
সোমবার (১২ মে) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, শুক্রবার (৯ মে) দুপুরে কিশোরটি তার খালা মরিয়ম বেগমের বাসায় যায়। ওই সময় মরিয়ম শরবত বানাতে গেলে কিশোরটি তার মানিব্যাগ থেকে টাকা চুরি করার চেষ্টা করে। এ সময় ধরা পড়লে মরিয়ম তাকে মায়ের কাছে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোরটি ছুরি দিয়ে মরিয়মকে আঘাত করে।
চিৎকার শুনে আরেক খালা সুফিয়া বেগম দৌড়ে এলে তাকেও একইভাবে ছুরিকাঘাত করে। এরপর রান্নাঘর থেকে শিল-পাটা এনে দুই বোনের মাথায় আঘাত করে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে সে।
ঘটনার সময় খুনির পরনে ছিল লাল টি–শার্ট, জিনস প্যান্ট ও মাথায় ক্যাপ। হত্যাকাণ্ডের পর সে টি–শার্ট পাল্টে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। দুই খালাকে হত্যার মধ্যে মাত্র ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় লেগেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
ঘটনার দিন রাত ১১টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় মরিয়ম (৬০) ও সুফিয়া (৫২) বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরিয়ম বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন।
ডিবি জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিশোরটিকে শনাক্ত করা হয়। এরপর রবিবার (১১ মে) গভীর রাতে বরিশালের ঝালকাঠির সদর উপজেলার আছিয়ার গ্রাম থেকে তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আনা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে কিশোর হত্যার কথা স্বীকার করেছে। ডিবির ভাষ্যমতে, কিশোরটি হত্যার পর থেকে পুলিশের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে থেকে নানা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জমি বা পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খবরওয়ালা/আরডি