খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একটি বিদেশি পিস্তল, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্রসহ মো. রাসেল (৩৬) ওরফে ‘ডন রাসেল’ নামের এক চিহ্নিত অপরাধীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ২৫ এপ্রিল (শনিবার) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার নিকট তথ্য ছিল যে, টেকনাফের সাবরাং এলাকায় কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে। এই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের একটি চৌকস দল সাবরাং ইউনিয়নের সিকদারপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন সন্দেহভাজন মো. রাসেলকে তার অবস্থান থেকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে তল্লাশি করে তার হেফাজত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযান শেষে আটককৃত ব্যক্তির কাছ থেকে যেসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে প্রদান করা হলো:
| ক্রমিক | উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের বিবরণ | পরিমাণ |
| ০১ | বিদেশি পিস্তল | ০১টি |
| ০২ | ম্যাগাজিন | ০১টি |
| ০৩ | তাজা গুলি | ০১ রাউন্ড |
| ০৪ | দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র | ০৩টি |
আটককৃত মো. রাসেল সাবরাং ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার বাসিন্দা। স্থানীয় পর্যায়ে তিনি ‘ডন রাসেল’ হিসেবে পরিচিত। কোস্ট গার্ডের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও রেকর্ড পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসা, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। এলাকায় একক আধিপত্য বজায় রাখতে তিনি অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন বলে অভিযোগে প্রকাশ।
উল্লেখ্য যে, রাসেলের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও নানাবিধ অপরাধের দায়ে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং অস্ত্র আইনে মোট ৮টি মামলা চলমান রয়েছে।
এর আগে টেকনাফ থানা পুলিশ কর্তৃক তিনি বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিলেন।
এলাকায় তিনি একজন চিহ্নিত চোরাকারবারি এবং সন্ত্রাসী চক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত।
আটককৃত আসামিকে জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের সীমান্ত এলাকা ও সমুদ্র উপকূলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক পাচার রোধ এবং সন্ত্রাস দমনে তাদের এই ধরনের জিরো টলারেন্স নীতি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।