খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে পৌষ ১৪৩২ | ২৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকেবাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কক্সবাজার ও বান্দরবানের এলাকায়আবারও ভারী গোলাবর্ষণ এবংবিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শনিবার রাতভরমিয়ানমার সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীআরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষচলার ফলে টেকনাফ, উখিয়াও নাইক্ষ্যংছড়ির সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষআতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন।তবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো গোলা নেমেআসার খবর পাওয়া যায়নি।
সোনাতলাথানার স্থানীয় সূত্র ও সীমান্তবাসীরবরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাত ১১টা থেকেরোববার ভোর ৩টা পর্যন্তটেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কিছু এলাকায় থেমেথেমে মর্টারশেল এবং বোমার বিকটশব্দ শোনা গেছে। উখিয়ারপালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়ন, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন ও নাইক্ষ্যংছড়িরঘুমধুম ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বিস্ফোরণেরশব্দে বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়েনিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
সীমান্তেরস্থানীয় সূত্র জানায়, রাখাইনরাজ্যের বলিবাজারে আরাকান আর্মির সদরদপ্তরের দিকে রাত ১১টারদিকে হঠাৎ বিমান হামলাচালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আরাকান আর্মিও পাল্টাহামলা চালায়। বিস্ফোরণ ওগোলাগুলির শব্দ ভোররাত পর্যন্তশোনা যায়। তবে সীমান্তপিলার BRM-18 থেকে প্রায় ১৫কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে এবংশূন্য লাইন থেকে ১৩কিলোমিটার দূরে এসব সংঘর্ষহলেও বাংলাদেশের কোনো অংশে গোলাপড়েনি।
বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়কলেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিনজানান, “হোয়াইক্যং বিওপি এলাকার নিকটবর্তীমিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ভেতরে কোনো ক্ষতিহয়নি। তবে নাফ নদীও সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সতর্কঅবস্থানে রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিনজরদারিতে রাখা হয়েছে।”
সীমান্তবর্তীবাসিন্দারা জানিয়েছেন, উখিয়ার রহমতের বিল, আঞ্জুমান পাড়া, নলবনিয়া, ধামনখালী, টেকনাফের উলুবনিয়া, খারাংখালী, হোয়াইক্যং, লম্বাবিল ও তেচ্ছি ব্রিজএলাকা এবং নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, তুমব্রু, পাথরকাটা ও চাকমাপাড়া সীমান্তএলাকা কেঁপে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরাবলছেন, রাখাইন রাজ্যে সরকারীবাহিনী এবং আরাকান আর্মিও তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্রগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ এবংবিমান হামলার কারণে সীমান্তবর্তীএলাকা নিয়মিতভাবে অস্থির হয়ে পড়ছে।এ পরিস্থিতি স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার ওপরসরাসরি প্রভাব ফেলছে।
| এলাকা | বিস্ফোরণসময় | ঘটনা | প্রভাব |
| হোয়াইক্যং, টেকনাফ | রাত ১১টা – ভোর৩টা | মর্টারশেল ও বোমা বিস্ফোরণ | বাসিন্দারা আতঙ্কিত, ঘরবাড়ি ছাড়লেন |
| উখিয়া (পালংখালী ও রাজাপালং) | রাত ১১টা – ভোর৩টা | গোলাবর্ষণ | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ |
| নাইক্ষ্যংছড়ি (ঘুমধুম, তুমব্রু, পাথরকাটা, চাকমাপাড়া) | রাত ১১টা – ভোর৩টা | বিস্ফোরণ | এলাকার মানুষ রাতে ঘুমাতে পারেননি |
| বলিবাজার, রাখাইন রাজ্য | রাত ১১টা – ভোর৩টা | বিমান হামলা ও আরাকান আর্মি-পল্টা হামলা | বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে ১৩–১৫ কিমি দূরেসংঘর্ষ |
সংবাদ সংক্ষেপে:
সীমান্তে ভয়াবহ গোলাবর্ষণ ওবিস্ফোরণের ফলে স্থানীয় মানুষআতঙ্কিত হয়েছেন। বিজিবি সতর্ক অবস্থানেরয়েছে এবং পরিস্থিতি নজরদারিতেরাখা হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যেসরকারি বাহিনী ও সশস্ত্রগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের কারণেসীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।