খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার আসন্ন বৈঠক এবং হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, বৈঠকের আগে চীন হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করতে সহযোগিতা করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল সংগ্রহে এই প্রণালিটি ব্যবহার করে। তিনি জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে বেইজিং সফরে তার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে ট্রাম্প বৈঠকের আগেই চীনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ দেখতে চান, কারণ দুই সপ্তাহের অপেক্ষা তার মতে দীর্ঘ সময়।
তিনি আরও বলেছেন, সফর কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চীনের কাছে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচলের জন্য আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তেহরানের সঙ্গে চীনের ভালো সম্পর্ক থাকায় বেইজিংয়ের নিজেদের তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটের প্রয়োজন নাও হতে পারে।
ভারতও সম্প্রতি তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে তাদের দু’টি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে পার করার অনুমতি পেয়েছে। এর আগে ট্রাম্প ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে আহ্বান করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য। তবে, এই আহ্বান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক সাড়া পায়নি। ফলে প্রণালির কাছে বহু দেশের জাহাজ আটকে আছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে।
বিশ্বজুড়ে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিম্নের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| দেশ | প্রণালিতে জাহাজ চলাচল | মন্তব্য |
|---|---|---|
| চীন | প্রায় ৯০% তেল চীনের সংগ্রহ | হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে |
| ভারত | ২টি তেলবাহী জাহাজ পার হয়েছে | তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী |
| যুক্তরাষ্ট্র | নো-সাড়া | যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান করেছে |
| ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া | আনুষ্ঠানিক সাড়া নেই | নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য আহ্বান পেয়েছে |
| অন্যান্য দেশ | বহু জাহাজ আটকা | তেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহে প্রভাব |
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এই আহ্বান চীনের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে, যা শুধু হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না, বরং গ্লোবাল তেল বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি চীন বৈঠকের আগে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে এটি হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং তেলের স্থিতিশীল বাজারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ধরা হবে। অন্যদিকে, চীনের কোনো পদক্ষেপ ব্যর্থ হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও চীনের প্রতিক্রিয়া বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার তেলবাজারের নিরাপত্তা ও সরবরাহ নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে।
বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এখন শুধুমাত্র একটি ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কূটনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।