খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটি লিখেছিলেন ডিলান ফ্রেডম্যান এবং কেটি রজার্স। যদিও ডিলানের নাম উল্লেখ করা হয়নি, ট্রাম্প কেটি রজার্সকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে লিখেছেন, ‘কেটি রজার্সকে নিয়োগই দেওয়া হয়েছে আমার সম্পর্কে কেবল বাজে কথা লেখার জন্য। সে একজন তৃতীয় শ্রেণির সাংবাদিক; ভেতর ও বাইর—উভয় দিক থেকেই কুৎসিত।’
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে তথ্যভিত্তিক একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। ৭৯ বছর বয়সি ট্রাম্প এতে চটেছেন।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি প্রতিবেদনের সহলেখক কেটি রজার্সকে ‘কুৎসিত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্প আরেক নারী সাংবাদিককে ‘চুপ করো, পিগি’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। সেই রেশ না কাটতেই আবারও নারী সাংবাদিককে লক্ষ্য করে তার এই কটুকথা জেন্ডার–সংবেদনশীল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘ব্যর্থ হতে চলা নিউইয়র্ক টাইমসের ওই জঘন্য লোকগুলো আবারও তাদের কাজ শুরু করেছে।’ প্রতিবেদনের লেখকরা ছিলেন— পত্রিকাটির এআই ইনিশিয়েটিভ টিমের ডিলান ফ্রেডম্যান এবং হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি কেটি রজার্স। ট্রাম্প ডিলানের নাম উল্লেখ না করলেও কেটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণের লক্ষ্য বানিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘প্রতিবেদক কেটি রজার্সকে নিয়োগই দেওয়া হয়েছে আমার সম্পর্কে কেবল বাজে কথা লেখার জন্য। সে একজন তৃতীয় শ্রেণির সাংবাদিক; যে ভেতর ও বাইর—উভয় দিক থেকেই কুৎসিত।’
উক্ত পোস্টে তিনি এ বছর নিজের কঠোর পরিশ্রমের তালিকাও প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, জনমত জরিপে তিনি সর্বকালের সেরা অবস্থানে আছেন, যদিও প্রকৃতপক্ষে তার সমর্থন কমেছে। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘এমন একটা দিন আসবে, যখন আমারও শক্তি ফুরিয়ে আসবে, এটা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে। কিন্তু আমার জন্যে সেই সময়টা এখনো আসেনি।’ তিনি দাবি করেছেন, বিভিন্ন শারীরিক ও কগনিটিভ পরীক্ষায় তিনি ভালো ফল করেছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুর দিকে ট্রাম্প এমআরআই করিয়েছিলেন। তবে পরীক্ষার কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, ট্রাম্প ও তার প্রশাসন সব সময়ই খোলামেলা ও স্বচ্ছ।
ট্রাম্প পত্রিকাটিকেও আক্রমণ করেছেন, তাদের ‘শিগগিরই বন্ধ হতে চলা’ প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়েছেন। যদিও নিউইয়র্ক টাইমস এখন লাভজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ডিজিটাল গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলা হলেও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলার ভিত্তি দুর্বল।
নিউইয়র্ক টাইমসের পক্ষ থেকে একজন মুখপাত্র বুধবার বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘দ্য টাইমসের প্রতিবেদনটি নির্ভুল ও তথ্যভিত্তিক। বাজে নামে ডাকা বা ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনো সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না। ভয়ভীতি দেখানোর এমন কৌশলের মুখেও আমাদের সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহে পিছপা হবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেটি রজার্সের মতো দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিকরা দেখান কীভাবে স্বাধীন গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে সরকার ও নেতাদের আরও ভালোভাবে বোঝাতে সহায়তা করে।’
খবরওয়ালা/টিএসএন