খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে চৈত্র ১৪৩২ | ১১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মার্কিন ডলারের বিনিময় বাজারে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি ও অস্থিতিশীলতা রোধে কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংককে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ডলার ক্রয়-বিক্রয় না করার জন্য মৌখিকভাবে কঠোর সতর্কতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোঃ মোস্তাকুর রহমান এবং ব্যাংকার্স বাংলাদেশ সমিতির প্রতিনিধিরা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাংকের অতিরিক্ত দামে ডলার ক্রয়ের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কিছু ব্যাংক প্রবাসী আয়ের ডলার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি দামে কিনছে, যা বাজারে চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং বিনিময় হারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এ কারণে ব্যাংকগুলোকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকেই লেনদেন সম্পন্ন করে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে এবং ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থানও স্থিতিশীল। এমন পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় উচ্চ দামে ডলার ক্রয় বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে যে মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রবাসী আয়ের ডলার নির্ধারিত সীমার মধ্যে ক্রয় করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক লেনদেনেও নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ব্যাংকিং খাতের একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাংক নির্ধারিত সীমার চেয়ে কিছুটা বেশি দামে ডলার কিনেছে। এর ফলে আন্তঃব্যাংক বাজারে লেনদেনের গতি কমে গেছে এবং অনেক ব্যাংক উচ্চ দামে কেনা ডলার তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে অনীহা প্রকাশ করছে।
| বিষয় | নির্ধারিত নির্দেশ |
|---|---|
| মানি এক্সচেঞ্জ থেকে ডলার ক্রয় | নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে |
| আন্তঃব্যাংক ডলার লেনদেন | নির্ধারিত সীমা অতিক্রম না করা |
| বাজারে ডলারের সরবরাহ | তুলনামূলকভাবে পর্যাপ্ত |
| ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা অবস্থান | স্থিতিশীল |
বৈঠকে ব্যাংকার্স বাংলাদেশ সমিতি ব্যাংক কর্মীদের প্রণোদনা বোনাস সংক্রান্ত একটি পূর্ববর্তী নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানায়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, মূলধন ঘাটতি বা প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলো তাদের কর্মীদের প্রণোদনা বোনাস প্রদান করতে পারবে না। ব্যাংকারদের মতে, এই বিধিনিষেধ শিথিল করা হলে কর্মীদের মনোবল ও কর্মদক্ষতা বজায় থাকবে।
সূত্র জানায়, গভর্নর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং শর্তসাপেক্ষে কিছু ব্যাংককে প্রণোদনা বোনাস দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদি তারা ন্যূনতম প্রভিশন সংরক্ষণ মান বজায় রাখতে পারে।
এছাড়া ব্যাংকার্স বাংলাদেশ সমিতি ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের বার্ষিক বোনাসের সর্বোচ্চ সীমা বর্তমানে পনেরো লাখ টাকা থেকে বাড়ানোর প্রস্তাব উপস্থাপন করে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বিশ লাখ টাকা থেকে চল্লিশ লাখ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানানো হয়।
আরও একটি প্রস্তাবে পরিবেশবান্ধব যানবাহন বিশেষ করে হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ে ব্যাংকগুলোকে সর্বোচ্চ নব্বই শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়, যাতে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয়।
সব মিলিয়ে বৈঠকে ডলার বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যাংকিং খাতে নীতিগত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।