ঢাবিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ
প্রকাশ: 12শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৬ই জুন ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে নিয়মিতভাবে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগ হচ্ছে কোনো গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই—শুধু অফিসপ্রধানের সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ সার্কুলারের মাধ্যমে। এ নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অভিন্ন নিয়োগনীতির কথা বললেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে খবর প্রকাশ না হওয়ায় এসব পদে বহির্বিশ্ব থেকে আগ্রহীরা সুযোগ পাচ্ছেন না, বরং পরিচিতি, প্রভাব এবং রাজনৈতিক সংযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সূত্র বলছে, ২০০৬ সালের আগে চতুর্থ শ্রেণির পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো। কিন্তু ওই বছর সিন্ডিকেটের একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পদ শূন্য হলে বিভাগীয় প্রধান একটি নোটিশ জারি করেন এবং দপ্তরের নোটিশ বোর্ডে তা টাঙানো হয়। নিয়োগ শেষে নিয়োগের তথ্য কেবল প্রশাসন-৯ শাখাকে অবহিত করা হয়।
এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশাসন-৯ শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার আনজুয়ারা পারভীন বলেন, “আমরা শুধু নিয়োগের বিষয়টি জানতে পারি। নিয়োগের আগে সার্কুলার কোথাও প্রকাশিত হয় না। এটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিষয়।”
যদিও ইউজিসি সরাসরি চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তির বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, তারা সকল শ্রেণির নিয়োগে অভিন্ন প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলে। ফলে অভ্যন্তরীণ নিয়োগপ্রথা ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর ধারা ৪ অনুযায়ী, সকল নাগরিক রাষ্ট্রীয় বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে কেবল নোটিশ বোর্ডে সার্কুলার ঝুলিয়ে দেওয়া হলে সাধারণ নাগরিক বা চাকরিপ্রার্থীদের সেই তথ্য জানার সুযোগ হয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থী প্লাবন ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে গোপনে নিয়োগ দেওয়া দুর্নীতির শামিল। এটা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের মতো। জনগণের টাকায় পরিচালিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনিয়ম চলতে পারে না। আমি এর প্রতিবাদ জানাই এবং দাবি করি—প্রক্রিয়াটি হোক স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুন্সি শামস উদ্দীন আহম্মদ জানান, “২০০৬ সালের সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, চতুর্থ শ্রেণির পদগুলো অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। তখন থেকেই এই নিয়ম চলে আসছে। তবে এটি নিয়ে এখন নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, “তথ্য জানার অধিকার সবারই আছে। চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে যে অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া রয়েছে, সে বিষয়ে আমি আগে জানতাম না। এখন আমরা এ নিয়ে কাজ করছি—নীতিমালায় কী কী পরিবর্তন, সংযোজন বা সংশোধন প্রয়োজন, সে বিষয়ে ভিসি স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে এ ধরনের অনিয়ম প্রশ্ন তোলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
খবরওয়ালা/এমএজেড